
সংগৃহীত ছবি
টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার সব উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে নিয়মিত পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য জানানো হচ্ছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে অতিরিক্ত বরাদ্দও পাঠানো হবে।
উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে।
জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, রেড ক্রিসেন্ট, আনসার, স্বেচ্ছাসেবক ও বেসরকারি সংগঠনের সমন্বয়ে বিশেষ উদ্ধার ও ত্রাণ দল কাজ করছে।
বর্তমানে জেলায় ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে ইতোমধ্যে প্রায় আট হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
-টিএস