বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বদলে যাচ্ছে শিরোপার সমীকরণ। একে একে বিদায় নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা নেইমারের ব্রাজিল এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ফলে এবারের আসরে সবচেয়ে আলোচিত লড়াই এখন এসে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের মধ্যে। ফুটবলপ্রেমীদের প্রশ্ন—এবার কি তবে মেসির সামনে খুলে গেছে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি দরজা?
গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে শেষ ষোলোর লড়াই পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ধারাবাহিকভাবে দারুণ ছন্দে রয়েছে। অধিনায়ক লিওনেল মেসিও খেলছেন নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো, আক্রমণ সাজানো এবং কঠিন মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করছেন কেন তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা হয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির নামের পাশে ইতোমধ্যেই রয়েছে অসংখ্য রেকর্ড। এবারের আসরেও তিনি গোল ও সহায়তা—দুই ক্ষেত্রেই দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। অভিজ্ঞতা, ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত এবং বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের বিদায়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিটকে গেছে। একইভাবে পর্তুগালের বিদায়ে রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও সম্ভবত শেষ হয়ে গেল। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেসি ও এমবাপে। তবে শিরোপার পথে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এমবাপে দুর্দান্ত গতির পাশাপাশি ধারাবাহিক গোল করে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন।
তবে ফুটবল শুধু তারকার লড়াই নয়, এটি দলগত খেলা। আর্জেন্টিনার শক্তি হলো তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দল। মাঝমাঠে সৃজনশীলতা, রক্ষণভাগে শৃঙ্খলা এবং আক্রমণে কার্যকারিতা—সব মিলিয়ে দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই দলটি যে কোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু মেসির জাদু যথেষ্ট হবে না। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণ—সব বিভাগকেই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে ছোট একটি ভুলও স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে।
অন্যদিকে ফ্রান্সও সমান শক্তিশালী। এমবাপের পাশাপাশি তাদের দলে রয়েছে একাধিক ম্যাচজয়ী ফুটবলার। ফলে সম্ভাব্য ফাইনালে মেসি বনাম এমবাপের লড়াই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দ্বৈরথে পরিণত হতে পারে।
নেইমার ও রোনালদোর বিদায়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ এখন নতুন সমীকরণে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি সমর্থকের আশা, মেসি কি আবারও ইতিহাস লিখতে পারবেন? সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। তবে এটুকু নিশ্চিত—আর্জেন্টিনা যদি একই ছন্দ ধরে রাখতে পারে এবং মেসি নেতৃত্বে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন, তাহলে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন মোটেও অসম্ভব নয়। এখন অপেক্ষা কেবল সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের।