⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম

X

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা, শিল্প ও কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মজুত সক্ষমতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এ তেল সরবরাহ করবে। এ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এ তেল কিনছে। বিপিসির প্রস্তাবে ইতোমধ্যে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার সাধারণত প্রতি ছয় মাস পরপর দেশের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানি করে। জুন-আগস্ট সময়ের চাহিদা বিবেচনায় বিপিসির প্রস্তাব অনুমোদনের পর প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) দেওয়ার পর চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হবে।
বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান জানান, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে এনওএ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলেই দ্রুত তেল সরবরাহ শুরু হবে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত নিশ্চিত করা। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের মজুত রয়েছে।
ব্যয় ও অর্থায়ন
বিপিসির প্রস্তাব অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের ১৩ মে নির্ধারিত বিনিময় হার (প্রতি মার্কিন ডলার ১২৩ টাকা ২৫ পয়সা) অনুযায়ী আমদানির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত ব্যয়ে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। এ অর্থ বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজন হলে ঋণ বা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে জোগান দেওয়া হবে।
বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা
বিপিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বিকল্প নৌপথ ব্যবহার, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত যুদ্ধঝুঁকি বিমা প্রিমিয়ামের কারণে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে।
সরবরাহে সংকট নেই
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং প্রায় ৬০ দিনের মজুত রয়েছে। ডলার সংকট সত্ত্বেও এলসি খোলায় অগ্রাধিকার দেওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।
যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে।
সূত্র: বাসস
-টিএস