ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
প্রথমবারের মতো গম আমদানিতে শীর্ষে আর্জেন্টিনা
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৪ এএম
ফাইল ছবি
X Advertisement

ফাইল ছবি

চার বছর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের গম আমদানির উৎসে যে বদল শুরু হয়েছিল, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তার বড় প্রতিফলন দেখা গেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের গম আমদানির শীর্ষ উৎসে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার গম আমদানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ। মোট আমদানিকৃত এই গমের প্রায় ৩০ শতাংশই এসেছে আর্জেন্টিনা থেকে। একসময় বাংলাদেশের গম আমদানির প্রধান দুই উৎস ছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। প্রায় প্রতি অর্থবছরেই এই দুই দেশের যেকোনো একটি শীর্ষে থাকত। তবে ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় আমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেন, যা এখন প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

আর্জেন্টিনা আগে থেকেই বাংলাদেশের গমের অন্যতম উৎস হলেও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশটি থেকে আমদানি দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের গম আমদানির তালিকায় আর্জেন্টিনার অবস্থান চতুর্থ থাকলেও সর্বশেষ অর্থবছরে তা প্রথমবার শীর্ষে উঠে এসেছে। এনবিআরের হিসাবে, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে আর্জেন্টিনা থেকে ২২ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। মোট আমদানিতে দেশটির অংশীদারত্ব প্রায় ৩০ শতাংশ।

অন্যদিকে, শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়া রাশিয়া থেকে আমদানি কমে নেমে এসেছে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টনে, যা মোট আমদানির ২৩ শতাংশ। অথচ এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট গম আমদানির ৪৪ শতাংশই এসেছিল রাশিয়া থেকে। বাংলাদেশে এত দিন আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন তেল বেশি আমদানি হলেও এবার সেই তালিকায় বড় পরিসরে যুক্ত হলো গম। আগে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশটি থেকে গম আনলেও গত অর্থবছরে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান আর্জেন্টিনা থেকে গম আমদানি করেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডেল্টা এগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিরুল হক জানান, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পর সরবরাহ ঝুঁকি কমাতেই তারা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে বিকল্প উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

বাংলাদেশে নরম গমের অন্যতম উৎস দেশগুলো হলো রাশিয়া, ইউক্রেন, আর্জেন্টিনা, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও ব্রাজিল। রাশিয়া–ইউক্রেনের বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ আর্জেন্টিনা দখল করলেও ব্রাজিল তাদের অংশীদারি বাড়িয়েছে তুলনামূলক ধীরগতিতে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে ৪ লাখ ৭৬ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে, যা মোট আমদানির ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে মোট আমদানির ২ শতাংশ এসেছিল এবং বাজারে অবস্থান ছিল সপ্তম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে সপ্তম অবস্থান থেকে পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে গড়ে সবচেয়ে কম দামে গম সরবরাহ করেছে ব্রাজিল (টনপ্রতি ২৫৫ ডলার)। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এই দাম ছিল ২৫৭ ডলার। অর্থাৎ, তুলনামূলক কম দাম হওয়া সত্ত্বেও ব্রাজিল বাংলাদেশের বড় উৎসে পরিণত হতে পারেনি।

উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ শক্ত গমের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ এখনো কানাডা। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে কানাডা থেকে ১৬ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে, যা মোট আমদানির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে দেশটি গম আমদানির উৎস হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে, কয়েক বছর বিরতির পর আবার বাংলাদেশের গমের বাজারে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে কোনো গম আমদানি না হলেও গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭ লাখ ৪৪ হাজার টন গম, যা মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চতুর্থ বৃহত্তম উৎসে পরিণত হয়েছে। মূলত সরকারিভাবে গম আমদানির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব বেড়েছে। দেশটি থেকে আমদানি হওয়া মোট গমের ৯৫ শতাংশই এনেছে সরকার এবং বাকি ৫ শতাংশ আমদানি করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

আমদানিকারকদের মতে, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বাংলাদেশের গম আমদানির উৎসে বড় বৈচিত্র্য এনেছে। আগে যেখানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরতা ছিল বেশি, এখন সেখানে আর্জেন্টিনা, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এতে সরবরাহের ঝুঁকি কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারের দাম এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো বাংলাদেশের গম আমদানিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.

Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; 01550707297 Advertisement: 41053012; 01550707292, E-mail: [email protected] [email protected]
🔝