নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ব্যস্ততম মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মারীখালী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ সংযোগস্থলে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে করে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজারসংলগ্ন মারীখালী সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বর্জ্য ফেলার কারণে স্থানটি কার্যত একটি উন্মুক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পচনশীল ময়লা থেকে নির্গত দুর্গন্ধে সেতুর নিচের ইউ-টার্ন ব্যবহারকারী পথচারী ও যানবাহনের চালক-আরোহীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেককে নাকে রুমাল বা হাত চেপে এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যকর নজরদারি ও নির্ধারিত ডাম্পিং ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিনই এখানে ময়লার পরিমাণ বাড়ছে। বৃষ্টির সময় ময়লার পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এতে নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে।
মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, রমজান হাসান ও বিল্লাল হোসেন বলেন, দুর্গন্ধের কারণে বাজার এলাকায় অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ ও স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে কয়েক মিনিটও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং আশপাশের পরিবেশ ও নদীর পানি দূষিত হয়।
পথচারীদের অভিযোগ, জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের পাশে এমন বর্জ্যের স্তূপ শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, সোনারগাঁওয়ের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। তারা দ্রুত ময়লা অপসারণ ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানান।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, প্রতিদিনই এখানে ব্যাপকহারে ময়লা ফেলা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যায়। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, উন্মুক্ত স্থানে এভাবে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিমালার পরিপন্থী। স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে সেখানে সাইনবোর্ড ও ব্যানারও টানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত ১৮ জুন উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জমে থাকা ময়লা অপসারণ করে এবং সেখানে পুনরায় ময়লা না ফেলার নির্দেশনা দেয়। তবে নির্দেশনা উপেক্ষা করে আবারও বর্জ্য ফেলা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। সেখানে ময়লার স্তূপ তৈরি হওয়া দুঃখজনক। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয়েছে এবং আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উপজেলা প্রশাসন তিন ধাপের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপে বর্তমান ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য পরিবেশসম্মত একটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি বৃহৎ প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।
ইউএনও আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সোনারগাঁও গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এইচএমআর/এসআর