ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বিশ্বকাপে ৪০ বছর পর নকআউটে জয় মেক্সিকোর
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ পিএম
X Advertisement

বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচ জয়ের জন্য মেক্সিকোকে অপেক্ষা করতে হলো ৪০ বছর। সেই দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হলো ঘরের মাঠে, নিজেদের দর্শকদের সামনে। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে হাভিয়ের আগিরের দল।

মেক্সিকোর জয়ের নায়ক জুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেস। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ২২ মিনিটে কিনোনেস গোল করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হিমেনেস। এরপর বাকি সময় ইকুয়েডরের চাপ সামলে জয় ধরে রাখে মেক্সিকো।

বিশ্বকাপে মেক্সিকোর শেষ নকআউট জয় ছিল ১৯৮৬ সালে। সেবারও তারা ছিল স্বাগতিক। বুলগেরিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল মেক্সিকো। এরপর বিশ্বকাপের নকআউটে বারবার থেমে গেছে তাদের পথ। অবশেষে আবার ঘরের মাঠেই ভাঙল সেই দীর্ঘ অপেক্ষা।

ম্যাচ শুরুর আগেই নাটক ছিল অবশ্য। মেক্সিকো সিটির আশপাশে বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচ শুরুতে বিলম্ব হয় প্রায় এক ঘণ্টা। ফিফার আবহাওয়া প্রোটোকলের কারণে নির্ধারিত সময়ের পর মাঠে নামে দুই দল। তবে সেই বিলম্ব মেক্সিকোর ছন্দে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মেক্সিকো। ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরাকে একাদশে রেখে বড় সিদ্ধান্ত নেন আগিরে। তরুণ এই মিডফিল্ডার শুরু থেকেই সাহসী ফুটবল খেলেন। তার গতি, পাসিং ও চাপ প্রয়োগ ইকুয়েডর রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলে।

২২ মিনিটে আসে প্রথম গোল। রবার্তো আলভারাদোর পাস ধরে বাম দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান কিনোনেস। ঠিক সময় দৌড় ধরে অফসাইড এড়িয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। গ্যালিন্দেসের কিছুই করার ছিল না।

গোলের পর মেক্সিকো আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি ছিল আরও সুন্দর। নিচ থেকে বল পুনরুদ্ধারের পর হিমেনেস ও কিনোনেসের বোঝাপড়ায় আক্রমণ গড়ে ওঠে। কিনোনেস বল ফিরিয়ে দেন হিমেনেসকে। এরপর দারুণ শটে বল জালে পাঠান মেক্সিকোর অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।

দুই গোলের পর ইকুয়েডর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। জন ইয়েবোয়া কয়েকবার বিপদ তৈরি করেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মেক্সিকো কিছুটা চাপে পড়লেও গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল ও রক্ষণভাগ পরিস্থিতি সামলে নেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর বলের দখল বাড়ায়। মোইসেস কাইসেদো, কেনদ্রি পায়েস, কেভিন রদ্রিগেজদের নিয়ে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। কিন্তু মেক্সিকোর রক্ষণ ছিল সংগঠিত। সিজার মন্তেস ও ইয়োহান ভাসকেস বারবার গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স করেন।

৬৭ মিনিটে মেক্সিকো তৃতীয় গোলের খুব কাছে গিয়েছিল। কর্নার থেকে সিজার মন্তেসের হেড এক হাতে দারুণভাবে ঠেকান ইকুয়েডর গোলরক্ষক গ্যালিন্দেস। সেই সেভ না হলে ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত।

শেষ দিকে ইকুয়েডর মরিয়া চাপ দিলেও গোল পায়নি। বরং যোগ করা সময়ে লাল কার্ড দেখেন পিয়েরো হিনকাপিয়ে। তখন ইকুয়েডরের বিদায় প্রায় নিশ্চিত।

মেক্সিকোর জন্য জয়টি শুধু শেষ ষোলোয় ওঠার নয়, মানসিক বাধা ভাঙারও। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা কয়েকটি বিশ্বকাপে নকআউটে উঠেও তারা আর এগোতে পারেনি। এবার নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে রাউন্ড অব ৩২ পেরিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল স্বাগতিকরা।

ঘরের মাঠের আবহও মেক্সিকোর বড় শক্তি ছিল। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের সামনে শুরু থেকেই ইকুয়েডরকে চাপে রাখে স্বাগতিকরা। জাতীয় সংগীত থেকে শেষ বাঁশি পর্যন্ত গ্যালারি ছিল মেক্সিকোর পক্ষে সরব।

শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গো ম্যাচের জয়ী দল। অর্থাৎ ৪০ বছরের অপেক্ষা ভাঙার পর আরও বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ এখন আগিরের দলের সামনে।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.

Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; 01550707297 Advertisement: 41053012; 01550707292, E-mail: [email protected] [email protected]
🔝