রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া এলাকায় বুনো হাতির উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে কৃষক আব্দুল কাদেরের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বুনো হাতির হামলার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী বন থেকে প্রায়ই বুনো হাতির দল লোকালয়ে নেমে এসে বসতঘর, ফলদ ও বনজ গাছপালা এবং বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে। এতে আব্দুল কাদেরের পরিবারসহ মুসলিমপাড়ার একাধিক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “রাতে হাতির ভয়ে ঘুমাতে পারি না। আমার সৃজিত বাগান, ফসল ও গাছপালা নষ্ট করেছে। শুধু তাই নয়, ঘরেরও অনেক ক্ষতি করেছে।”
কাদেরের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (পাখি) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হাতির আতঙ্কের কারণে আমার মেয়ে, জামাই ও নাতি-নাতনিরা আর আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে না। প্রতিদিন ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয়।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “বন্য হাতি আমাদের ইক্ষুক্ষেত, কলাগাছ, পানির পাম্পসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। প্রতিরাতই আতঙ্কে কাটে। আমরা প্রশাসন ও বন বিভাগের দ্রুত সহযোগিতা চাই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়বে।”
এ বিষয়ে ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, “হাতি লোকালয়ে আসার বিষয়টি শুনেছি। তবে কারও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো কেউ আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।”
রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের কর্ণফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, “চিৎমরমের মুসলিমপাড়া এলাকায় বুনো হাতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি শুনেছি। তবে ফসল ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কাপ্তাই রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ দেখাশোনা করে।”
স্থানীয়দের দাবি, বুনো হাতির পুনঃপুন আক্রমণে জানমাল ও জীবিকার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হাতির আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
কেএইচ/ এসআর