ফেনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও প্রবীণ আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ফেনী শহরের রামপুরের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের জামাতা নূর আহমেদ বাবুল বলেন, 'মরহুমের জানাজা মঙ্গলবার বাদ আসর শহরের মিজান ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৬৪ সালে ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলে পড়াকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাফেজ আহম্মদের রাজনীতির সূচনা। ১৯৬৬ সালে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৬৮ সালে শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ৬৯ সালে মহকুমা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে স্থান পান। একই বছর গঠিত মহকুমা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক, ৭০ সালে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ৭২-৭৩ সালে মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তীতে ৭৩ থেকে ৭৮ সাল পর্যন্ত পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৯৮ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন হাফেজ আহম্মদ।
২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান সভাপতি ও নিজাম উদ্দিন হাজারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ২৮ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান আকরামুজ্জামান। একই বছরের ০৯ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান হাফেজ আহম্মদ। ২০২৩ সালের ০৬ আগস্ট দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় তাকে ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট হাফেজ হাফেজ আহম্মদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী সমিতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ফেনী জেলা জজ কোর্টের একজন অত্যন্ত দক্ষ ও জনপ্রিয় আইনজীবী এবং সাবেক পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এমএ