মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়ন সীমান্ত দিয়ে ৬ নারী ও এক শিশুকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে আলীনগর ইউনিয়নের দেবলছড়া সীমান্তের বকশিটিলা এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয় বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন নিশ্চিত করেছেন। তবে আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে দেবলছড়া সীমান্ত দিয়ে এক শিশুসহ ৭ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আটক নারীরা জানান, ভারতের একটি কারাগারে তারা প্রায় ২৫ দিন আটক ছিলেন। পরে ভোরে তাদের চোখ বেঁধে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ।
জহির আহমেদ নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, “আমি নিজে তাদের আটক করে আমাদের মেম্বার ও কমলগঞ্জ থানাকে জানাই। কিন্তু থানা থেকে আমাকে বলা হয়, তাদের কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিতে। পরে মেম্বার এসে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তাদের একটি সিএনজিতে তুলে দেন।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, “সকালে ব্রাজিলের খেলা ছিল। সবাই দোকানে বসে খেলা দেখছিল। সেখানে আনসার সদস্যরাও ছিলেন। হঠাৎ স্থানীয়রা এদের দেখতে পেয়ে আটক করে। পরে তারা আমাকে জানালে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। তাদের সঙ্গে কথা বলি। তবে প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছিল। কেউ বলছিল ঢাকায়, কেউ গাজীপুরে, আবার কেউ সাভারে তাদের বাড়ি। পরে আমি তাদের রেখে চা খেতে আসি। এ সময় স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেয়। তারা একটি সিএনজিতে করে চলে যায়।”
প্রতিবেদক ইউপি সদস্যকে প্রশ্ন করেন, টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো দোকানে চা খেতে এসেছিলাম। যারা সেখানে ছিল, তারা হয়তো টাকা-পয়সা নিয়ে ছেড়ে দিতে পারে।”
আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়াজ মোর্শেদ রাজু জানান, “বিষয়টি আমি জানার আগেই স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেয়। পুশইনের শিকার নারীরা সবাই বাংলাদেশি এবং তাদের বাড়ি ঢাকার সাভার এলাকায় বলে জানা গেছে।”
কমলগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ভোরে দুই থেকে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুসহ ৭ নারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পাই। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আটকের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানানো হলে হয়তো আমরা তাদের হেফাজতে নিতে পারতাম।” এ সময় প্রতিবেদক জানতে চান, আটকের পর থানায় ফোন করা হলেও পুলিশের গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, “এ কথা সঠিক নয়। কেউ আমাকে বিষয়টি জানায়নি।”
এদিকে, এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ-এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এসএস/আরএন