ভোলার চরফ্যাশনের চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. ওমর ফারুককে সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় পাঁচ হাজার সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এ নোটিশ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল খায়ের স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের বলেন, 'মাদরাসা সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২০ জুন) সকাল ৭টার দিকে বন্ধ থাকা চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সরকারি পাঠ্যবই সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুপার মাওলানা মো. ওমর ফারুক। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে বইগুলো আটক করেন। এ সময় মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. ওমর ফারুক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের হাতে বইগুলো আটক হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিক্রির উদ্দেশ্যেই সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। পরে বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসা সুপার মাওলানা মো. ওমর ফারুক বলেন, 'একটি শ্রেণিকক্ষ খালি করার প্রয়োজন হওয়ায় আমি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বইগুলো সরানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এগুলো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বই নয়। স্থানীয়রা ভুল বুঝে আপত্তি জানালে আমি সেখান থেকে চলে আসি।'
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, 'চরফ্যাশনে চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার প্রায় পাঁচ হাজার সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির চেষ্টার সময় স্থানীয়দের হাতে বইগুলো আটক হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি পাঠ্যবই গোপনে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মাদরাসা সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ইউএনও রোমানা আফরোজ বলেন, 'স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
এসএফ/এএম/এমএ