অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের একটি দল গত ১৫ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরনগরদী এলাকার মো. রায়হান খান (২১), নরসিংদী সদর উপজেলার ভাগদী এলাকার মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া (২৩) এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ভিটি পরমেশ্বরদী এলাকার আবু জোবায়ের সানি (৩৬)।
সিআইডি জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইটের কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকেন্দ্রিক বেটিং পরিচালনা করা হচ্ছিল।
এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৭ মে রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, অনলাইন বেটিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়সহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে তাদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত করে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতো।
সিআইডির তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন। জুয়ার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ থেকে কমিশন কেটে রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। রায়হান খান ও আবু জোবায়ের সানি নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম ব্যবহার করে কমিশন গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে পাভেল রহমান ভূঁইয়া বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে চক্রের সদস্যদের সরবরাহ করতেন বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, একই মামলায় এর আগে গত ৭ জুন টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল রানাকে (৩২) গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এমআর/এসআর