Tuesday | 9 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Tuesday | 9 June 2026 | Epaper
BREAKING: ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ      সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত      নওগাঁ সীমান্তে উত্তেজনা, দুশ্চিন্তায় সীমান্তবাসী      বারবার উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রধানমন্ত্রীর      টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ      ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ, উচ্চ আদালতে যাবেন বাদি      টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪      

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পিএম   (ভিজিট : ৩২)

দীর্ঘ ২১ বছরের আক্ষেপের অবসান। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে মোহাম্মদ আশরাফুলের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া বধের গল্প লিখেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২১টি বছর। ওয়ানডে সংস্করণে অজিদের আর কখনোই হারাতে পারেনি টাইগাররা। 

অবশেষে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘুচল সেই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয়বারের মতো হারিয়ে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

ডকওয়ার্থ-লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতিতে অজিদের ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

মিরপুরে পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল বাংলাদেশের একচ্ছত্র দাপট। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে বাগড়া দেয় বৃষ্টি আর বজ্রপাত। বাংলাদেশের যখন ঐতিহাসিক এই জয়ের জন্য মাত্র ১টি উইকেটের প্রয়োজন, ঠিক তখনই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৫৫ মিনিট অপেক্ষার পর ম্যাচ আর মাঠে গড়ানো সম্ভব না হলে আম্পায়াররা বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করেন।

মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভার ২ বলে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান করার পর বৃষ্টি হানা দেয়। এরপর খেলা আর মাঠে না গড়ালে ডিএল মেথডে ৮৬ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। নতুন বলে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এই ডানহাতি পেসারের খানিকটা নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি। তবে রানার গতিতে ভেঙে যায় সেই প্রতিরোধ। ১১তম ওভারের প্রথম বলে ইংলিসকে ফেরান এই পেসার। ২৫ বল খেলে ১৯ রান করেছেন ইংলিস।

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলার পর বল হাতেও দুর্দান্ত শুরু করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট তুলে নেন তিনি। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া কনোলিকে বোল্ড করেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে কনোলির ব্যাট থেকে আসে ৫০ বলে ৩৫ রান। এরপর ম্যাট রেনশকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন মোসাদ্দেক। সবমিলিয়ে ম্যাচে ৩৭ রানে ২ উইকেট তার।

অজিদের মিডল অর্ডার ভেঙে দিতে মূল ভূমিকা ছিল রানার। এই ডানহাতি পেসার মিরপুরে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন। ৪১ রানের বিনিময়ে তার শিকার মোট ৪টি উইকেট। ইংলিসের পর অ্যালেক্স ক্যারি, লিয়াম স্কট ও জেভিয়ার বার্টলেটকে ফেরান তিনি।

বাকিদের আসা-যাওয়ার মাঝেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। ৬৬ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাকে কেউই যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি।

এর আগে মিরপুরে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ৫ রান করে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান। অবশ্য আরেক ওপেনার তানজিদ তামিমকে নিয়ে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৯১ বলে ৯৬ রানের জুটি। তামিম ৫৪ রানে বিদায় নিলেও লড়াই চালিয়ে যান শান্ত।

তবে চারে নেমে লিটনকে নিয়ে বড় পুঁজি গড়ার আগেই ভেঙে যায় জুটি। মাত্র ৭ রান করে বোলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। এর মাঝেই ক্যারিয়ারের দ্বাদশ ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত। অর্ধশতক করে তিনি রানের গতি বাড়াতে চাইলেও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৭ রান করে ডাগআউটে ফেরেন এই ব্যাটার।

আচমকা চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর ইনিংস বড় করার দায়িত্ব নেন তাওহীদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেন। ৪ বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক নিজেকে নতুনভাবে চেনাতে থাকেন। হৃদয়কে নিয়ে ৭৫ রানের জুটি গড়েন এই ব্যাটার।

মোসাদ্দেক শুরু থেকে আক্রমণাত্মক হলেও হৃদয় ছিলেন ধীরগতির। ৩১ রানের ইনিংস খেলতে ৫১ বল খেলেন তাওহীদ হৃদয়। এরপর ব্যাট হাতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তানভীর ইসলামও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি।

মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়াই করেন মোসাদ্দেক। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দিনে খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসও। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগে ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। এর আগে ওয়ানডেতে তার সর্বোচ্চ ছিল ৫২ রান।

মোসাদ্দেকের সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দেন লোয়ার অর্ডারে নামা তাসকিন আহমেদ। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ২০ রান করেন তিনি। টপ অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন নাথান এলিস। এছাড়া ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট ২টি করে এবং জেভিয়ার বার্টলেট একটি উইকেট নেন।






LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close