মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ যখন আকাশচুম্বী, তখন দৃশ্যপটে হাজির হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অনুরোধে ইরানে হামলা থামাতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। তবে লেবাননের ক্ষেত্রে রাখা হয়েছে নতুন শর্ত।
ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ট্রাম্পের অনুরোধে আমরা ইরানে হামলা বন্ধ করছি। তবে আমাদের এই সমীকরণ অনুযায়ী লেবাননে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চলবে যে—তারা যদি আমাদের বসতি লক্ষ্য করে গুলি চালায়, আমরা বৈরুতের দাহিহ এলাকায় পাল্টা আঘাত করব।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপটি ‘সামগ্রিকভাবে বেশ ইতিবাচক’ ছিল বলেও ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ একজন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছে, সেনাবাহিনী ইরানে যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও দক্ষিণ লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি করবে না।
এর আগে গত সোমবার ভোরে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলে তাদের আক্রমণ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এর জবাব হবে ‘বিধ্বংসী’।
গত রোববার (৭ জুন) লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দেশটির রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েল ভয়াবহ বোমা হামলা চালালে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর প্রতিশোধ নিতে ইরান উত্তর ইসরায়েলে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। জবাবে ইসরায়েলও ইরানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েক দফা বিমান হামলা চালায়।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার পরই ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে ইসরায়েল ও ইরানকে ‘অবিলম্বে’ যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে লেবাননে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক।