ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বন্ধে আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে লেনদেনের অভিযোগে চলতি সপ্তাহেই আরও একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে কোন ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে, তা জানাননি তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (AP) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ওয়াশিংটন চাপ আরও বাড়াবে।
বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘আর্থিক সহিংসতা’ প্রয়োগ করবে। তার ভাষায়, যেসব প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে লেনদেন করছে, তাদের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত এবং এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি নতুন একটি উদ্যোগ শুরু করেছে। এর আওতায় ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধেও মার্কিন প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এটি চূড়ান্ত হলে মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক - ব্যাংক মিসরের সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক শাখাগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারাতে পারে। মিশরীয় ব্যাংকটির ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিবর্তে শাখাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চায় ওয়াশিংটন।
জি২০ বৈঠকের আগে বেসেন্ট জানিয়েছেন, তিনি চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। চীনের ইরানি তেল কেনার বিষয়ে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে তিনি বলেন, সব ধরনের বিকল্পই বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চীনকে মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন পিছিয়ে আছে। এমন ধারণা তিনি নাকচ করেছেন।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন ব্যাংক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। এর আগে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থার ওপর হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বেসেন্টের নতুন ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ যে শুধু সামরিক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাকেও এর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা আরও স্পষ্ট হলো।
এফএস