খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুল আমান মসজিদ রোড এলাকায় নানী ও দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তে দুই শিশুর সৎ বাবা রফিক হাওলাদারকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার রাতে নিহত দুই শিশুর জৈবিক বাবা মাসুম ব্যাপারী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। এরপর রাতভর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা ও মানিকতলা এলাকায় অভিযান চালিয়েও রফিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, নিহতরা হলেন মেরী বেগমের মা বেবী বেগম (৬২) এবং তার দুই ছেলে শামীম (১৩) ও মুস্তাকিম (৪)। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ নগরীর বিলপাড়া রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া শিশুদের মা মেরী বেগমকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল জানান, মেরী বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি রফিক হাওলাদারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই মেরীর মা বেবী বেগম এবং বড় ছেলে শামীম এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারছিলেন না। এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই বিরোধ ও কলহ লেগে থাকত।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন গভীর রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে রফিককে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার জের ধরে ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মনোভাব থেকে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে পাওয়া তথ্যমতে, পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মেরী বেগম দেখতে পান তার কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ। পরে রফিক দরজা খুলে তাকে জানান, তার মা দুই সন্তানকে নিয়ে চলে গেছেন এবং আর ফিরবেন না।
পুলিশ বলছে, এ সময় রফিক পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করেন। দিনভর মেরী বেগম স্বজনদের খোঁজ করলেও পাশের কক্ষে তালা ভেঙে দেখার উদ্যোগ নেননি। পরে বিকেলে তার খালা রেনু বেগম বাড়িতে এসে দুর্গন্ধ টের পেলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের তালা ভেঙে খাটের নিচে বেবী বেগম এবং ট্রাংকের ওপর কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় শামীমের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সিআইডির সদস্যরা একটি ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে মুস্তাকিমের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে রফিক হাওলাদারকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে মনে হচ্ছে। তবে তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে রফিকের কাছে বাড়ির মূল ফটকের চাবি ছিল। সেই চাবি ব্যবহার করে তিনি গভীর রাতে বাসায় প্রবেশ করেন এবং রাত সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রফিক পেশায় ট্রাকচালক। তার বিরুদ্ধে আগে একটি চুরির মামলা রয়েছে। এছাড়া মেরী বেগম ও রফিক উভয়ের মাদকাসক্তির অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রধান সন্দেহভাজন রফিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এসএমএস/ এসআর