পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষ হচ্ছে রোববার। সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের পুঁজিবাজার খোলা থাকায় দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে নগরবাসীসহ কর্মজীবী মানুষ।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফিরতি যাত্রায় চাপ তুলনামূলক কম থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতেই রাজধানীতে ফিরতে পারছেন বলে জানা গেছে।
রোববার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ, আশুলিয়ার বাপাইল, নবীনগর, সাভার ও গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের আনাগোনা দেখা যায়। পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় কোথাও অতিরিক্ত ভিড় বা যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়েনি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সবাই একদিনে রাজধানীতে ফিরছেন না। অনেকেই ধাপে ধাপে ফিরছেন, ফলে কয়েক দিনে যাত্রী চাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, ঈদের সময় বিভিন্ন কারণে বাড়ি যেতে না পারা অনেকেই এখনো পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন। ফলে পরিবহনগুলোতে দুইমুখী যাত্রার চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে ঢাকামুখী যাত্রী, অন্যদিকে গ্রামমুখী যাত্রী দুই পক্ষের চলাচলে কিছুটা ব্যস্ততা থাকলেও কোথাও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি।
যাত্রীরা বলছেন, ফাঁকা সড়ক, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের ঢাকা ফেরা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদানের আগে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বাসষ্ট্যান্ডগুলোতে রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে বেলা ১১টার দিকে সাভারে এসে নামেন মঞ্জুর হোসেন। তিনি পৌরসভার শাহীবাগ এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি তৈরী পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বাবা-মা পরিবারের লোকজন গ্রামে থাকায় তিনি প্রতি বছর গ্রামে গিয়ে ঈদ উদযাপন করেন।
মঞ্জুর হোসেন বলেন, 'কাজের চাপে বছরের অন্যান্য সময় বাড়ি যেতে পারিনা। তাই ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলেও ছুটি শেষে ঢাকা ফিরতে মন চায় না। সারাক্ষণ অস্থির লাগে। মনে হয়, গ্রামে যদি মা-বাবার সঙ্গে সব সময় থাকা যেত তাহলে অনেক ভালো লাগতো। কিন্তু কর্মের কারণে রাজধানীতে ছুটে আসতে হয়।'
বেসরকারি চাকরিজীবী সাবিনা আক্তার বলেন, 'ঈদের আগে যাওয়ার সময় যে ভিড় ছিল, ফেরার সময় তেমনটা পাইনি। বাসেও খুব বেশি চাপ ছিল না, আরামেই চলে এসেছি।'
তার সঙ্গে থাকা নারগিছ আক্তার বলেন, 'অনেকে এখনও গ্রামেই আছেন, তাই ভিড় কম। তবে দুই-একদিন পরই ঢাকায় মানুষের চাপ বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। পুরো সপ্তাহজুড়েই ধাপে ধাপে মানুষ ঢাকায় ফিরবে। এরপর আবার সবাই নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে শিল্পাঞ্চল ফিরে পাবে তার চিরচেনা ব্যাস্ততা।'
উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা বাসের সহকারী আশরাফুল বলেন, 'ফিরতি চাপ এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। যাত্রী আছে, তবে আগের বছরের মতো হুড়োহুড়ি বা ভিড় নেই।'
বৈশাখী পরিবহনের চালক আলমগীর হোসেন বলেন, 'ঈদের ছুটি শুরুর পর থেকে রাজধানীতে যাত্রী নেই। আজও যাত্রী কম থাকলেও গত কয়েক দিনের তুলনায় রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে। ঈদের ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফেরা শুরু করেছে। রোববার অধিকাংশ মানুষ চলে আসবে। আশা করি সোমবার থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে। ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু হওয়ায় ঢাকার সড়কগুলোতেও ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়ছে।'
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে শিল্পাঞ্চলে কর্মব্যস্ততা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। অনেক কর্মী সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে সময় কাটান এবং অনেক প্রতিষ্ঠান প্রথম দিন সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ওএফ/এমএ