হবিগঞ্জের বাহুবলে সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিনে পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাত জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের সবাই তরুণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং অদক্ষ চালকের কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে ঈদ বা ছুটির দিনে এবং সন্ধ্যার পর মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদেরও মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যায়।
সমাজকর্মী নজির হোসেন হাসু বলেন, 'ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল অংশে ভারী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় মোটরসাইকেল চালকদের সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ। মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের কিছু অংশ সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।'
এছাড়া, রাস্তার কিছু স্থানে খানাখন্দ ও পর্যাপ্ত সড়ক বাতির অভাবও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন তিনি।
ইউপি চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ বলেন, 'সাম্প্রতিক কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবার এখন সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহার থেকে নিরুৎসাহিত করছে।'
তিনি দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের দাবি জানান।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, 'হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টের মাধ্যমে যানবাহনে তল্লাশি, কাগজপত্র যাচাই ও গতিনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ঈদের ছুটিতে কার্যক্রম কিছুটা শিথিল ছিল। রোববার থেকে আবার নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে।'
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ওসি মো. মামুন রহমান বলেন, 'মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কে বিশেষ দিনগুলোতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল বেড়ে যায়। মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকেই ট্রাফিক আইন মানেন না এবং হেলমেট ছাড়া বেপরোয়া গতিতে চালান। এ কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটছে। গত শুক্রবার সাতগাঁও হাইওয়ে থানা পুলিশ চারটি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।'
এমআর/এমএ