ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ক্রেতা নেই, সড়কেই চামড়া ফেলে গেছেন অনেকে
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৫:৪১ পিএম
X

গাইবান্ধায় ক্রেতা-সংকট এবং ন্যায্য দাম না পেয়ে মহাসড়কের পাশে কোরবানির পশুর শত শত চামড়া ফেলে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সিন্ডিকেটের কারণে চামড়ার বাজার ধসে পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ঈদুল আজহায় গাইবান্ধায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট পলাশবাড়ী শহরের কালীবাজারে চামড়া নিয়ে আসতে শুরু করেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও দান করা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে। দুই দিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোয় অপেক্ষা করে কোনো ক্রেতার খোঁজ মেলেনি। সেগুলো মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বিক্রি করতে না পেরে ফেলে চলে যান তাঁরা।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র রবিদাস (৫৫)। তিনি প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিন বাইসাইকেল নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কেনেন। পরে জেলার ঐতিহ্যবাহী চামড়ার হাট পলাশবাড়ীতে ঢাকা থেকে আসা পাইকারদের কাছে সেই চামড়া বিক্রি করেন। কিন্তু পলাশবাড়ী হাট বসবে আগামী বুধবার। ঈদের দিন বড় পাইকারেরা আসেননি। তারপরও তিনি পলাশবাড়ীর স্থানীয় পাইকারদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। পলাশবাড়ী হাটে চামড়া নিয়ে দুই দিন অপেক্ষা করেও কেউ দাম বলেননি।

মানিক চন্দ্র রবিদাস বলেন, ‘ঈদের দিন ধারদেনা করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনেছি। গাইবান্ধায় এবার ঈদে পশুর চামড়ার দাম অনেকটা কম। স্থানীয় চামড়ার পাইকারি আরতগুলোতে চামড়ার আমদানি প্রচুর। কিন্তু পাইকারেরা চামড়া কিনছেন না। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ধারদেনা করে চামড়ার ব্যবসায় লগ্নি করেছেন। সেই চামড়া তারা বিক্রি করতে পারছেন না। চামড়া কিনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।’   
পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী হরিপদ দাস (৫৫) বলেন, ‘ঈদের দিন ৫০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনেছি। বিকেলে গাইবান্ধা শহরের একটি চামড়ার আড়তে বিক্রি করতে  নিয়ে গিয়েছিলাম। পাইকারদের কেউ দাম করেননি। পরদিন পলাশবাড়ীর হাটে নিয়ে যান। সেখানে কোনো ক্রেতা চামড়া দাম করেন নাই।’ তাঁর ভাষ্য, পাইকারেরা বলছেন, ‘চামড়া কিনে কী করব? আমরা বিক্রি করব কোথায়?’ তিনি বিক্রি করতে না পেয়ে বাড়িতে নিয়ে চামড়ায় লবণ দিয়ে রাখছেন।

স্থানীয় চামড়ার পাইকারেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতি ঈদের পর বুধবার পলাশবাড়ী হাট বসে। আগামী বুধবার (৩ জুন) পলাশবাড়ী চামড়ার হাট বসার কথা রয়েছে। এখানে গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রিকশা-ভ্যান ও ভটভটিতে করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে আনেন। কিন্তু এবার ঈদের পরদিন থেকে এই হাটে চামড়া উঠতে শুরু করেছে।
তবে পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতিবছর হাটের দিন ঢাকা থেকে ট্যানারির মালিকেরা চামড়া কিনতে আসেন। আগামী বুধবারও তাঁদের আসার কথা। তাঁদের চাহিদার ওপর চামড়ার বাজার অনেকটা নির্ভর করছে।   

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার এবার ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫৫ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১২ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গ্রাম ঘুরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৬০-৬৫ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১৮-২০ টাকা দামে কিনেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে চামড়া কিনেছি। এখন বিপদে পড়েছি। কোনো মহাজন ছাগলের চামড়ার দামই করছেন না।’

গাইবান্ধা শহরের চামড়া ব্যবসায়ী আরশাদ আলী মোবাইলে বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। ফলে তাঁদের কাছ থেকে বেশি দামে চামড়া কিনতে মহাজনেরা আগ্রহী হচ্ছেন না। এ ছাড়া এ বছর লাম্পিস্কিন রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পাইকারেরা চামড়া কিনতে ভয় পাচ্ছেন।


এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝