রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্তটি সঠিক হলেও, যেভাবে এই শিল্পকে এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে, সেটি ছিল “অ্যা ক্লাসিক কেস অব মিসম্যানেজমেন্ট” বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার দুপুরে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সাভারে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) ব্যবস্থা রয়েছে এবং উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপাদনকারী এই শিল্পকে এমন একটি উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করাই যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু যেভাবে এটি স্থানান্তর করা হয়েছে, সেই ব্যবস্থাপনাটি ছিল একটি “ক্লাসিক কেস অব মিসম্যানেজমেন্ট”। যার কারণে বর্জ্য শোধনাগারটি যে সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত হয়েছিল, সেই সক্ষমতায় এটি কার্যকর নেই। একই সঙ্গে এখানে আসা অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানও টিকে থাকতে পারেনি। অনেক প্রতিষ্ঠান মাঝপথেই হারিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে বর্জ্য শোধনাগারটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিইটিপির সংস্কার ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণে ইতালির একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপাদনকারী এই শিল্পকে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্থানান্তর করা সময়ের দাবি ছিল, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, যারা নিজস্বভাবে ইটিপি স্থাপন করবে, তাদের সরকার টেকনিক্যাল সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তাও দেবে।
মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় যেসব উদ্যোক্তা ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বা হারিয়ে গেছেন, তাদের পুনর্বাসন ও সহযোগিতার মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে রক্ষায় বিএনপি সরকার নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এই শিল্পকে পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পরে মন্ত্রী চামড়া শিল্প নগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং মালিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।
অন্যদিকে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো ট্যানারি কারখানাগুলোতে কোরবানির পশুর চামড়া প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর কোরবানির ঈদের প্রথম দিন শিল্প নগরীতে প্রবেশ করা চামড়ার বড় একটি অংশই রক্তমাখা কাঁচা চামড়া হয়ে থাকে। কোরবানির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা এসব চামড়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লবণ মাখানো হয় না। এছাড়া রক্তমাখা চামড়ার পরিমাণও কম নয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শিল্প নগরীতে চামড়া আসা শুরু হওয়ার পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬টি ট্রাকে করে প্রায় পাঁচ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া শিল্প নগরীতে প্রবেশ করেছে। দ্বিতীয় দিনের কোরবানির পশুর চামড়াসহ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব চামড়ার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ওএফ/আরএন