Monday | 1 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Monday | 1 June 2026 | Epaper
BREAKING: সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মার্কেট-শপিংমল বন্ধের নির্দেশ      প্রবীণ আ.লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন      পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ      ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক-পুলিশ সংঘর্ষ      ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের      মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী      বাজেটের আগে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এক ধরনের ধোঁকাবাজি: জামায়াত আমির      

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের ঘোষণা কার্যকর হয়নি

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম   (ভিজিট : ২০)

ঈদের দিন ঢাকার শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তবে সেই ঘোষণা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। 

ঈদের পর দিন শুক্রবার রাজধানীর পূর্ব রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া ও খিলগাঁও তালতলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও বাসার সামনে এখনো পড়ে আছে কোরবানির পশুর বর্জ্য।

সবচেয়ে বেশি বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে পূর্ব রামপুরা এলাকায়। সেখানকার প্রায় প্রতিটি বাসার সামনেই পশুর নাড়িভুঁড়ি, রক্তমাখা মাটি ও অন্যান্য বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে পুরো এলাকাজুড়ে কোরবানির বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পূর্ব রামপুরার জাকের গলির বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, সিটি করপোরেশন বলেছিল রাতের মধ্যেই সব বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে। কিন্তু রাত গড়িয়ে সকাল হয়েছে, ময়লা তো কমতে দেখছি না। কোরবানির বর্জ্যের দুর্গন্ধে রাস্তায় হাঁটা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমি নিয়মিত সকালে হাঁটি। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি সব বাসার সামনে কোরবানির বর্জ্যের স্তূপ। গতকাল দিনের বেলা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এই এলাকায় দেখিনি। এখন যে চিত্র দেখছি তাতে তো মনে হচ্ছে রাতেও এই অঞ্চল থেকে কোরবানির বর্জ্য নেওয়া হয়নি।

রামপুরা মোল্লাবাড়ি অঞ্চলে গিয়েও দেখা যায় সর্বত্রই কোরবানির বর্জ্য পড়ে রয়েছে। মোল্লাবাড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতা চান মিয়া বলেন, গতকাল বিকেলে দোকান খুলেছিলাল। আমি গতকাল সিটি করপোরেশনের কাউকে কোরবানির বর্জ্য নিতে দেখিনি। আজ এখনো (সকাল সাড়ে ৮টা) কাউকে দেখিনি।

তিনি বলেন, যারা কোরবানি দিয়েছেন তারা বাসার সামনে বর্জ্য স্তূপ করে রেখেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধে দোকানে থাকা কঠিন হচ্ছে।

এলাকাটির বাসিন্দা লাইলা বেগম বলেন, এই অঞ্চলে যে বর্জ্য দেখছেন সব গতকালের। সিটি করপোরেশনের লোকজন এই এলাকা থেকে গতকাল ময়লা নেইনি। কখন এসব নেবে বুঝতে পারছি না। এভাবে কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকলে এলাকায় বাস করা তো কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, খবরে দেখলাম ঈদের দিনই সব বর্জ্য পরিষ্কার করবে সিটি করপোরেশন। এই যদি হয় তার নমুনা তাহলে তো কিছু বলার নেই। আমাদের এলাকার সব জায়গায় তো কোরবানির সব বড় বড় বর্জ্যগুলো এখনো পড়ে আছে। দুর্গন্ধের কারণে শিশুরা বাইরে বের হতে পারছে না।

মালিবাগ হাজীপাড়া এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন রাস্তায় বস্তা ভর্তি বর্জ্যের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে মাংস কাটার পাটি, খেটেসহ অন্যান্য বর্জ্য পড়ে রয়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত এলাকায় বর্জ্য অপসারণের কোনো কর্মী দেখা যায়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের দিন রাতেই যদি বর্জ্য সরানো হতো তাহলে মানুষকে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। সকালে দোকান খুলেই দুর্গন্ধের কারণে বসে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। এই অঞ্চলে যে বর্জ্য পড়ে রয়েছে সব গতকালের।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা গতকাল কোরবানি দিয়েছি। কোরবানির গরুর যে বর্জ্য হয়েছিল তা সুন্দর করে গুছিয়ে বাসার সামনে রেখে দিয়েছি। ব্লিচিং পাউডারও ছিটিয়েছি। কিন্তু গতকাল কোরবানি বর্জ্য না নেওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু হয়ে গেছে। সিটি করপোরেশন থেকে বলেছিল রাতের মধ্যে শতভার বর্জ্য অপসারণ করা হবে, শতভাগ তো দূরের কথা এই এলাকা থেকে একভাগ বর্জ্য অপসারণও করা হয়নি।

খিলগাঁও তালতলা এলাকায়ও কয়েকটি সড়কের পাশে কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে ময়লার গাড়ি না আসায় অনেকে বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলে রেখেছেন।

আলী হোসেন নামের একজন বলেন, খিলগাঁও তালতলা এলাকার কিছু জায়গা থেকে গতকাল বর্জ্য নিয়ে গেছে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। কিন্তু এখনো অনেক জায়গায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে রয়েছে। এতে বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।

সকাল ৯টার দিকে পূর্ব রামপুরা হাইস্কুল গলিতে পিকআপভ্যানে কোরবানির বর্জ্য তুলতে দেখা যায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। এই পিকআপটির চালক বলেন, আমরা গতকাল থেকেই কাজ করছি। গতকাল রাত দুইটা পর্যন্ত পরিষ্কারের কাজ করেছি। এতো বর্জ্য একদিনে কীভাবে সরাবো?

সেখানে স্থানীয় কয়েকজন বলছিলেন, ঈদের দিন সিটি করপোরেশনের কাউকে বর্জ্য নিতে দেখা যায়নি। তখন পাশ থেকে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, অভিযোগ দিলে তো হবে না। আমরা গতকাল থেকেই পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

মোল্লা বাড়ি অঞ্চলে ভ্যানে বর্জ্য অপসারণের কাজ করা একজন বলেন, আমরা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা নিই। গতকাল ঈদের দিন ছিল, তাই কাজ করিনি। এই এলাকায় প্রচুর কোরবানির বর্জ্য পড়ে রয়েছে। সিটি করপোরেশন থেকে বলেছে আগে কোরবানির বর্জ্য সরাতে। এখন কোরবানি বর্জ্য সরানোর কাজ করছি। আজ বাসাবাড়ি থেকে ময়লা নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, এই এলাকার প্রায় সব জায়গায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে রয়েছে। এতো বর্জ্য ভ্যানগাড়িতে সরানো সম্ভব না। ভ্যানগাড়িতে এসব নিতে নিতে রাত হয়ে যাবে। এই বর্জ্য সরাতে পিকআপভ্যান দরকার।

এমএ




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close