ঈদের আগমুহূর্তে বনদস্যুদের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বাগেরহাটের শরণখোলার দুই জেলে।
এক মাস চার দিন সুন্দরবনের গহিনে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকার পর বুধবার (২৭ মে) সকালে মুক্তিপণ দিয়ে তারা পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। তাদের ফিরে পাওয়ায় পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও এখনও বনদস্যুদের কবলে রয়েছেন শরণখোলা ও পাথরঘাটার আরও ১০ জেলে।
মুক্ত হয়ে ফেরা দুই জেলে হলেন শরণখোলা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের সগীর বয়াতী (৪০) ও বকুলতলা গ্রামের সরোয়ার হোসেন (৩৮)। দীর্ঘদিন বনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বন্দি থাকায় তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বাড়ি ফিরে স্বজনদের বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
জেলেরা জানান, গত এপ্রিলের শেষ দিকে শরণখোলা ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস থেকে বৈধ পাশ নিয়ে তারা সুন্দরবনের ছোট খাজুরা এলাকায় মাছ ধরতে যান। এ সময় মাছ ধরার একটি নৌকায় থাকা ছয় জেলের মধ্যে সগীর ও সরোয়ারকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। পরে তাদের পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
বন্দিদশার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তারা জানান, দস্যুরা তাদের দিয়ে দিন-রাত নৌকা চালানোসহ বিভিন্ন কাজ করাতো। ঠিকমতো খাবার কিংবা ঘুমের সুযোগও ছিল না। বনের মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন তারা। প্রতিটি মুহূর্ত আতঙ্কের মধ্যেই কাটাতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ দস্যুদের হামলার আশঙ্কায় সবসময় ভয়ে থাকতে হতো।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বনদস্যু শরিফ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে মাত্র তিনটি অস্ত্র থাকলেও তারা এখনও সুন্দরবনে দস্যুতা ও জেলেদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির সদস্য ও সমাজসেবক ওবায়দুল শেখ বলেন, “দস্যুদের অত্যাচারে জেলেরা এখন সুন্দরবনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকে মাছ ধরা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন। এতে উপকূলের দরিদ্র জেলে পরিবারগুলো বড় সংকটে পড়বে।”
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন জিম্মি থাকার পর দুই জেলে ফিরে আসার খবর আমরা পেয়েছি। বনরক্ষীরা দস্যুদের অবস্থান ও গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখছে। বিভিন্ন সময় অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে।”
এমআর/আরএন