ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ঈদ মোবারাক
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৬:১৭ এএম আপডেট: ২৮.০৫.২০২৬ ২:০১ পিএম
X

সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার মহিমা ধারণ করে আবারও এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনের অন্যতম প্রধান এ উৎসব আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে উদযাপিত হবে আনন্দ ও আত্মত্যাগের গভীর বার্তাকে সামনে রেখে।

হিজরি ক্যালেন্ডারের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয় ঈদুল আজহা। আগেভাগেই নির্ধারিত এই তারিখকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কয়েক দিন ধরেই চলে প্রস্তুতি-কোরবানির পশু কেনা, আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং গ্রামের বাড়িতে ফেরা।

ঈদ মানেই পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের নতুন করে উষ্ণতা খুঁজে পাওয়া। দূরত্ব, ক্লান্তি ও নানা বাধা অতিক্রম করে মানুষ পৌঁছে যায় প্রিয়জনের কাছে। শহর-গ্রাম মিলিয়ে তৈরি হয় এক অভিন্ন উৎসবের আবহ।

ঈদের সকালে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই নতুন বা পরিষ্কার পোশাকে ঈদগাহ কিংবা মসজিদে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করেন ঈদের নামাজ। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা।

এরপর শুরু হয় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও নিজের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেওয়া হয়।

কোরবানির প্রসঙ্গে আল-কুরআনে বলা হয়েছে-

“তাদের (কোরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা আল-হজ, আয়াত ৩৭)

কোরবানি সম্পর্কে একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-“যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।” (ইবনে মাজাহ)

কোরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্ট হয়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর প্রতি তাকওয়া, আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের প্রকাশ। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি থেকে বিরত থাকা দায়িত্বে অবহেলার শামিল।

সার্বিকভাবে কোরবানি মুসলমানদের জন্য আত্মত্যাগের শিক্ষা বহন করে। এর মাধ্যমে সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

দেশে সাধারণত গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি দেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে ভেড়া, দুম্বা ও উট কোরবানির প্রচলন রয়েছে।

রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জামাত স্থানান্তর করা হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায়। সেখানে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেও ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা শহর, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ (কিশোরগঞ্জ) এবং দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানেও বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন হাজারো মুসল্লি।

প্রতিটি এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝