সুন্দরবনে নতুন ডাকাত দল গঠনের প্রাক্কালে আত্মসমর্পণ করা ‘ছোট সুমন বাহিনী’র দুই সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ বাহিনী।
সোমবার সন্ধ্যায় তাদের আটক করা হলেও মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবনের শেলা নদী থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শেখ সাদমান বিন মাহমুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড জানায়, ‘সুমন বাহিনী’ থেকে বের হয়ে ‘চাচা-ভাইপো’ নামে নতুন একটি ডাকাত দল গঠন করে দুর্বৃত্তরা পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তথ্য পায় কোস্ট গার্ড। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রূপসা খেয়াঘাট ও কাটাখালীর মোড় এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী।
এসময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে মো. নাজমুল শেখ ও হানিফ শেখকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ‘চাচা-ভাইপো’ নামসংবলিত ৫০০টি ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সুন্দরবনের শেলা নদীর বটতলার খাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি পাইপগান, ১টি খেলনা পিস্তল এবং ১৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা অস্ত্র ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোংলা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের জাহাজ বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শেখ সাদমান বিন মাহমুদ জানান, সুন্দরবনজুড়ে কোস্ট গার্ডের দস্যুদমন অভিযান চলছে। কোস্ট গার্ডের অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে ‘সুমন বাহিনী’ নামের একটি দস্যুদল আত্মসমর্পণ করেছে। তবে ওই দল থেকে যারা আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক নয়, তারা নতুন দল গঠনের চেষ্টা করছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। যৌথ বাহিনীর হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তারা আটক হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসএস/আরএন