ফেনী শহরতলীর একটি মাঠে একসাথে ৬৭টি জাতের হাইব্রিড ও ইনব্রেড ধানের পরীক্ষামূলক আবাদ করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ কাশেমপুরের প্রায় ২০ একর জমিতে এই পরীক্ষা চলছে।
জাতীয় পদকপ্রাপ্ত সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার (অব.) মো. আজিজুল হক এ প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন অধিদপ্তর প্রকল্পটির তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।
মো. আজিজুল হক জানান, ২০২৪ সাল থেকে তিনি কাশেমপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে নতুন ধানের জাত পরীক্ষা ও বীজ উৎপাদনের প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন। উৎপাদিত বীজ তিনি সরকার অনুমোদিত ‘ফেনী স্মার্ট কৃষি’ নামে বাজারজাত করে থাকেন।
তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে মাঠের ১৬২টি প্লটে হাইব্রিড ৫৪টি জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাধীন ১৩টি জাতের ধান ৩৯টি প্লটে আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া বীজ উৎপাদনের জন্য ব্রি অনুমোদিত সর্বশেষ জাতসমূহের মধ্যে লবণ ও জলবায়ু সহনশীল ব্রি-১১৭ জাতের ধান চার একর জমিতে, পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই সহনশীল ব্রি-১১৪ জাতের ধান চার একর জমিতে, প্রোটিন সমৃদ্ধ ব্রি-১০৮ জাতের ধান চার একর জমিতে, জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-১০২ জাতের ধান তিন একর জমিতে, ডায়াবেটিক প্রতিরোধী ব্রি-১০৫ জাতের ধান এক একর জমিতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধী ব্রি-১১৫ (ব্ল্যাক রাইস) জাতের ধান এক একর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া হাইব্রিড ধানের বীজ উৎপাদনের জন্য আরও তিন একর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
দেশের কৃষি বিজ্ঞানী ও ধান বিজ্ঞানীরা নিয়মিত এই প্রকল্প তদারকি করেন। উল্লেখিত ২০ একর জমিতে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। বীজ বপন থেকে কর্তন পর্যন্ত ১৩৫ থেকে ১৫০ দিন সময় প্রয়োজন হয়।
মো. আজিজুল হক জানান, ২০১৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ও কৃষি আবাদে উৎসাহ যোগাতে তিনি প্রান্তিক কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। তার এই প্রকল্প দেখতে ফেনী ও আশপাশের এলাকার শত শত কৃষক মাঠে ছুটে আসেন। তিনি তাদের হাতে-কলমে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিগত আমন মৌসুমে ফেনী স্মার্ট কৃষির উৎপাদিত ব্রি-১১০ জাতের বীজধান ১০ কেজি করে ৫০০ কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়, যাতে কৃষকরা অল্প জমিতে বেশি উৎপাদন করে দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে আগ্রহী হন।
তিনি বলেন, দেশের আটটি গবেষণা কেন্দ্রে হাইব্রিড ও ইনব্রেড ধানের জাত পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের গবেষণা কেন্দ্রটি ফেনীর কাশেমপুরে অবস্থিত।
ফেনী বীজ প্রত্যয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কাশেমপুরের এই প্রকল্পটি তারা নিয়মিত তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকেন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিংবা ধান উৎপাদন কেমন হচ্ছে, এসব বিষয়ে তারা নিয়মিত নজর রাখেন।
আরএন