নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ এবং কার্যকর জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন।
রোববার এ দাবিতে রাজধানীর বনশ্রীতে ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি) কার্যালয়ে এক কর্মশালা ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে নারী উন্নয়ন শক্তি, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং লোকাল ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট (এলআইএফডি)।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নুসরাত সুলতানা আফরোজ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের যৌন নির্যাতন ও পাচার জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। শুধু আইন প্রণয়ন নয়, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা, প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।”
তিনি বিদ্যালয়ভিত্তিক “ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ” শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে নারী নির্যাতনের মামলা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন কাজী দিলরুবা জেফু বলেন, “গৃহকর্মী শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আইনি সুরক্ষা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলআইএফডির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম বলেন, “শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সহ-সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের বিশেষ বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।
সভায় অংশ নেওয়া কিশোরী বৈশাখী আক্তার বলেন, অনেক শিশু নির্যাতনের শিকার হলেও ভয় ও সামাজিক চাপে মুখ খুলতে পারে না। আরেক কিশোরী জান্নাতী আক্তার বলেন, শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষায় পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
সভা থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— নারী ও শিশু নির্যাতন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বিশেষ জাতীয় বাজেট বরাদ্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে “ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ” শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল কার্যকর করা এবং অনলাইন ও সীমান্তভিত্তিক মানবপাচার প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না হলে নারী ও শিশু নির্যাতন, মানবপাচার, বিচারহীনতা ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
এসআর