লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পাটগ্রাম উপজেলার কুচলীবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পশ্চিম গিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) এর অধীন কুচলীবাড়ী ইউনিয়নের কলসিমুখ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলাকালে প্রধান পিলার-৮০৬ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পশ্চিম গিয়াপাড়া এলাকায় একটি চোরাকারবারী দলকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ সময় বিজিবির টহল দল চোরাকারবারীদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা নির্দেশ অমান্য করে বিজিবির দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের সতর্ক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার রফিকুল ইসলামের নির্দেশে টহল সদস্যরা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
ফাঁকা গুলির পর চোরাকারবারীরা দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রংপুর ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া থেকে বের হয়ে চোরাকারবারীরা বাংলাদেশের দিকে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলীবাড়ী এলাকার কলসিমুখ সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জিরো লাইনে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রংপুর ব্যাটালিয়ন-৫১ এর তীব্র আপত্তির মুখে তা অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কুচলীবাড়ী ইউনিয়নের কলসিমুখ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি দল জিরো লাইনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের ও বিজিবির টহল দলের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি জানানো হয়। বিজিবি কঠোর প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ খুঁটি অপসারণে বাধ্য হয়।
এ বিষয়ে রংপুর ব্যাটালিয়ন-৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ প্রায়ই এ ধরনের বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে থাকে; বিজিবির কড়া প্রতিবাদের মুখে তারা সেগুলো অপসারণ করতে বাধ্য হয়।
এমএইচ/আরএন