পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জামায়াত নেতাকে হত্যার চেষ্টা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা। এ ঘটনায় স্থানীয় এমপির নেতৃত্বে থানার সামনে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে হত্যার চেষ্টা ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ শুক্রবার ভোরে অভিযুক্ত দু'জনকে গ্রেপ্তার করে।
তারা হলেন- দাশমরিচ এলাকার আয়নাল ও তার ছেলে হাফিজুর রহমান। তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার দাশমরিচ এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে আওয়ামী লীগের নেতাদের ধারালো অস্ত্রধারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন জিল্লুর রহমান। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় যুবক আব্দুর রহমান, স্বপন ও তাদের সহযোগীরা এই হামলা চালান।
তার দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে বাগবিতণ্ডার জেরে রাতে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। প্রথমে জিল্লুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তার মাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে রাস্তায় পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়।
আহত জিল্লুর রহমান (৫০) উপজেলার দাশমরিচ গ্রামের বাসিন্দা ও খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর রাতেই পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের জামায়াতের এমপি আলী আছগর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংসদ সদস্য আলী আজগর বলেন, 'আমার নেতাকে কুপিয়ে মৃতপ্রায় করা হয়েছে। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।'
খানমরিচ ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন বলেন, 'ব্যক্তিগত বিরোধ ও স্থানীয় একটি পরকিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।'
ভাঙ্গুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, 'হত্যা চেষ্টার ঘটনায় এজাহার নামীয় ১০ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় দু'জনকে শুক্রবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।'
আরআর/এমএ