পটুয়াখালীর বাউফলে প্রিয় শিক্ষিকার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম। অনুষ্ঠানে বসেই শিক্ষিকার অবসরজনিত ছুটি মঞ্জুর করেন তিনি। এরপর নিজে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে ওই শিক্ষিকাকে স্কুল থেকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসেন। শিক্ষিকার সঙ্গে একজন ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তার এমন আচরণ দেখে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ১২১ নং বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমের বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস ছিল। এ উপলক্ষে সহকর্মীরা তার বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেন। স্কুল ছুটির পর বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম।
এর আগে তিনি ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমের কর্মজীবন সম্পর্কে জেনে তার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানান।
১৯৮৭ সালে কলাপাড়ার চারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন কহিনুর বেগম। এরপর একাধিক বিদ্যালয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষিকা হয়ে ওঠেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করার নজির রয়েছে তার। ২০০৪ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। এরপর একাধিকবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন। শ্রেষ্ঠ কাব প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০১৫ সালে শ্রিলংকা শিক্ষা সফরে যান তিনি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার এমন বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে যে, শ্রেণিকক্ষে তাকে অনেকেই ‘তুমি’ সম্বোধন করছে। প্রিয় শিক্ষিকার শেষ কর্মদিবসে তার বিভিন্ন কর্মস্থল থেকে সহকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদায় জানাতে আসেন। বিদায়বেলা তাকে জড়িয়ে ধরে সহকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম বলেন, 'অবসরজনিত ছুটির জন্য কহিনুর বেগমকে কষ্ট করে আমার অফিসে যেতে হবে না। আমি আজ তার ছুটি এখানে বসেই মঞ্জুর করে দিলাম।'
এ সময় তিনি তার সহকারীকে ডেকে চিঠি তৈরি করে তাৎক্ষণিক ভাবে ছুটি মঞ্জর করে দেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজে তার গাড়ি চালিয়ে প্রিয় শিক্ষিকাকে স্কুল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসেন। শিক্ষিকার প্রতি শিক্ষা কর্মকর্তার এমন আচরণে উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অবাক বনে যান। অনেকেই এ ঘটনাটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন।
এএস/এমএ