রাজশাহীতে জীবন বীমা কর্পোরেশনের এক উন্নয়ন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে সাতজন গ্রাহকের প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া রশিদ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল হক পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা রাজশাহীর রাজপাড়া থানা ও জীবন বীমা কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে জীবন বীমা কর্পোরেশনের রাজশাহী রিজিওনাল অফিসের উন্নয়ন ম্যানেজার মো. মোকছেদুল হকের মাধ্যমে সাতজন গ্রাহক পেনশন বীমা চালু করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রিমিয়ামের টাকা নেওয়া হলেও তা অফিসে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ভুয়া রশিদ সরবরাহ করা হয়।
দীর্ঘদিন পর গ্রাহকেরা জীবন বীমা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তাঁদের জমা দেওয়া অর্থের কোনো হিসাব অফিসে নেই। এরপরই প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের মধ্যে তুনশ্রী প্রামাণিকের ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৮ টাকা, আনন্দ কুমার প্রামাণিকের ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫২০ টাকা, প্রতিমা নন্দীর ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫২০ টাকা, অসীম কুমার দাসের ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা, মেহেদী হাসানের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ টাকা, আশরাফুল ইসলামের ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৬ টাকা এবং মো. মনিরুজ্জামানের ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আত্মসাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৫২২ টাকা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনা প্রকাশের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবার এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী অসীম কুমার দাস ও আনন্দ কুমার প্রামাণিক বলেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা রেখেছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তার প্রতারণায় তাঁরা এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত অর্থ ফেরত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে জীবন বীমা কর্পোরেশনের রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন করেছেন এবং অফিসে টাকা জমা দেননি। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে স্বীকারও করেছেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সাবেক ম্যানেজার মোকছেদুল হক চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে অসুস্থতার অজুহাতে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। বর্তমানে তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনায় জীবন বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পুলিশি সহায়তায় তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
আরএইচএফ/এসআর