বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট কুখ্যাত বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ সর্বমোট সাত জন ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৬৫ রাউন্ড গুলি জমা দেন।
বৃহস্পতিবার কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ভাবে জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপটেন মোহাম্মদ মেজবাউল ইসলামের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন- বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৩১), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৮)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা ও রামপাল উপজেলায়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবাউল ইসলাম বলেন, 'আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের দস্যু বাহিনীগুলো। চলমান অভিযানে ১২ ফেব্রয়ারি থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২৬টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭৮ রাউন্ড বন্দুকের তাজা গুলি ও ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি। দস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করা হয় ২০ জন জিম্মি জেলেকে।'
তিনি বলেন, 'কোস্ট গার্ড ও র্যাবের নিয়মিত টহল এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডথ- এর মতো যৌথ অভিযান চলছে। প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানের ফলে দস্যুরা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে এবং অনেকেই এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য আত্মসমর্পণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর মধ্যে আজ সাধারণ জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করেছেন সাত বনদস্যু।'
এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত র্যাবের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সুন্দরবনের ৩২টি দস্যু বাহিনীর মোট ৩২৮ জন বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেন। তারা ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে ১ নভেম্বর ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে ২০২৪ সালের শেষ ভাগ থেকে বন ও জলদস্যুরা আবারও সংগঠিত হতে শুরু করে। বর্তমানে বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, বর্তমানে সুন্দরবনে প্রায় ১৫-২০টি ছোট-বড় দস্যু দল সক্রিয় রয়েছে।
অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দস্যু বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, 'এর আগে ২০১৮ সালে দস্যুতা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছিলাম। পুনর্বাসনের অভাব এবং আইনি জটিলতা ও স্থানীয় ভাবে নানা হয়রানির কারণে আবার ২০২৪ সালে দস্যুতা শুরু করি। কিছু দস্যু পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরেছেন। তারাও আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করবেন।'
জেইউ/এমএ