সাভারের আশুলিয়ায় ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে পৃথক স্থানে অবস্থানরত দুই ভাইকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। মোটরসাইকেলে এসে পৃথক স্থানে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা এলাকা সংলগ্ন ভার্চুয়াল পোশাক কারখানার গলি এবং ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
গুলির ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রিশান এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
গুলিবিদ্ধরা হলেন স্থানীয় নেট ব্যবসায়ী সবুজ সরকারের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিপন ও তার ভাই ইসমাইল। এর মধ্যে ইসমাইলের পিঠ ও দুই পায়ে গুলি লেগেছে এবং শিপন এক পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনটি মোটরসাইকেলে করে মুখোশ পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত জামগড়া ছয়তলা এলাকার ভার্চুয়াল পোশাক কারখানার ২ নম্বর গেটে অবস্থান নেয়। সেখানে ইসমাইল নামের একজনকে পায়ে ও পিঠে গুলি করে তারা। পরে ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় শিপন নামের আরেক যুবককে পায়ে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
গুলিবিদ্ধদের স্বজনরা জানান, রাতে ইসমাইল ভার্চুয়াল পোশাক কারখানার গলিতে এবং শিপন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে বসে ছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা প্রথমে ইসমাইলকে গুলি করে এবং পরে শিপনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে কারা এবং কী কারণে তাদের গুলি করেছে, তা এখনো জানা যায়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করেই এ গুলির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ওএফ/আরএন