বগুড়ার শেরপুরে সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন।
বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. রাফি মন্ডল (২৪) ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের নাটাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।
আহত জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা ওই পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সাথে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) যুক্ত করে রেখেছিলেন। গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ওই ট্রান্সফরমারটি চুরি করতে গেলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে রমজান ও আব্দুল জলিলের মুঠোফোনে কল চলে যায়। ডিভাইসের সংকেত পেয়ে মালিকপক্ষ তাৎক্ষণিক ভাবে চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের দুই-তিনটি গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এসে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ওই দুই যুবককে ধরে ফেলে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দু'জনেই গুরুতর জখম হন।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মন্ডল মারা যান। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শেরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে একজন মারা গেছেন। তার মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।'
এসএ/এমএ