শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও শিল্পোদ্যোক্তা হাজী মো. ফরহাদ হোসেনের ওপর হামলা ও তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে মরিচপুরান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই স্বপন মিয়া বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। মঙ্গলবার ওই কমিটির সভায় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে হাজী ফরহাদ হোসেন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান।
অভিযোগে বলা হয়, এ সময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও অপর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ হোসেন তালুকদারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। এতে হাজী ফরহাদ হোসেন ও তার সহযোগী বিএনপি কর্মী ফুল মাহমুদ আহত হন। একই সঙ্গে হামলাকারীরা ফরহাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
এ ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগে মাসুদ তালুকদার, যুবদল কর্মী রুকনুজ্জামান ও রাসেলসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মাসুদ তালুকদার বলেন, “হাজী ফরহাদ হোসেন একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সমর্থকদের নিয়ে সভা করতে এলে স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়।”
অন্যদিকে হাজী ফরহাদ হোসেন বলেন, “আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া এবং ভিজিএফ বিতরণে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ ছিল। পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের উদ্ধার ও গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমএস/এসআর