খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রিপেইড মিটার বাতিল করে আগের মতো এনালগ মিটার চালুর দাবিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে।
নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ এনে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
নদীবেষ্টিত দিঘলিয়া উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ ও দিনমজুরির সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রিপেইড মিটার একটি বাড়তি দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। আগে এনালগ মিটার চালু থাকাকালে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তেমন জটিলতা না থাকলেও বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় গ্রাহকদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রিপেইড মিটারের সার্ভিস তার বা আউটসোর্সিং লাইনে সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও অনেক সময় মিটার স্বয়ংক্রিয় ভাবে লক হয়ে যায়। এরপর সংযোগ চালু করতে আবেদন ফি, পরিদর্শন ফি ও লক খোলার ফি পরিশোধ করতে হয়। পাশাপাশি ইলেকট্রিশিয়ানের মজুরি গুনতে হয় আলাদা ভাবে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বজ্রপাত বা বৈদ্যুতিক ত্রুটিতে মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন মিটার পেতে কয়েক হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই নতুন সংযোগ চালুর জন্য প্রায় ছয় হাজার টাকার মতো খরচ পড়ছে, যা নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া, প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ বা ভেন্ডিং নিয়েও নানা সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। নেটওয়ার্ক বা সার্ভার জটিলতার কারণে টাকা কেটে নেওয়ার পরও টোকেন না পাওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানান গ্রাহকরা। অফিসে যোগাযোগ করলে অনেক সময় দ্রুত সমাধান মিলছে না বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভুলবশত একটি সংখ্যা ভুল করে টোকেন দিলে টাকা অন্যত্র চলে যায় এবং পরে তা ফেরত পেতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ পরিস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় “প্রিপেইড মিটার বাতিল করো”, “এনালগ মিটার চালু করো” ইত্যাদি দাবিতে পোস্টারিং শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন সংগঠনের উপদেষ্টা মোল্লা মাকসুদুল ইসলাম বলেন, “দিঘলিয়ার অধিকাংশ মানুষ নিম্নআয়ের। প্রযুক্তিগত জটিলতাপূর্ণ প্রিপেইড মিটারের কারণে তারা নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন। সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য আগের মতো এনালগ মিটার চালু করা প্রয়োজন।”
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা নাজমুল হক বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ কমাতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। প্রিপেইড মিটার নিয়ে মানুষের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।”
এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের (ওজোপাডিকো) আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকায় ধাপে ধাপে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে পোস্টারিংয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই।”
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাশগুপ্ত বলেন, “প্রিপেইড মিটারে জনভোগান্তি হলে বিষয়টি নিয়ে ওজোপাডিকোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। উপজেলাবাসীর সুবিধার্থে যা যা করণীয় আমার অবস্থান থেকে সব কিছু করা হবে।”
ডব্লিউএম/এমএ