বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে বছরের পর বছর অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প একসময় ১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত হতে পারত।
শনিবার বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুর হরিণধরা এলাকায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরীর ট্যানারি এলাকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাক (আরএমজি) এককভাবে প্রায় ৮৫ শতাংশ দখল করে আছে। এর বাইরে অন্যান্য খাত প্রত্যাশিতভাবে অবদান রাখতে পারেনি। চামড়া শিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর এবং পরবর্তী সময়ে অব্যবস্থাপনার কারণে এ খাত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে সংগৃহীত চামড়ার সম্পূর্ণ অংশ রপ্তানি খাতে কাজে লাগানো গেলে এ খাত ১২ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হতে পারত। বর্তমানে এর খুবই সামান্য অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে আরও বহু গুণ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
সিইটিপির সক্ষমতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে এখানে দৈনিক ১৪ থেকে ১৮ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিশোধন করা হয়। তবে কোরবানির ঈদের পর এই চাহিদা বেড়ে প্রায় ৪৫ হাজার ঘনমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রয়োজনে সরকার সহায়তা দেবে।
তিনি বলেন, ছোট ট্যানারিগুলোকে সেডিমেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিইটিপির আওতায় এনে ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়।
শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় সিইটিপির সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে একটি সমীক্ষা চলছে। ইতালিয়ান একটি কোম্পানি এ বিষয়ে কাজ করছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এর প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে এই খাতের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজাইন উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য সাভারেই একটি বিশ্বমানের ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। এতে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ও থ্রিডি ডিজাইনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর আগে শিল্পমন্ত্রী বিসিক শিল্পনগরীর কার্যালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় চামড়া শিল্পের বিদ্যমান সংকট, রপ্তানি সম্ভাবনা, পরিবেশ দূষণ এবং সিইটিপির কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ট্যানারির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ওএফ/এসআর