গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দুর্বল মনিটরিং ও শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি দিন দিন কমছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে এবং অনেকেই সন্তানদের বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় ১৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫০ হাজার ৯৯ জন এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ৫৮৬ জন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে বিদ্যালয়গুলোতে এর অর্ধেক শিক্ষার্থীরও উপস্থিতি নেই।
উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৯৯৬টি হলেও কর্মরত রয়েছেন ৯৩০ জন। শূন্য রয়েছে ৬৬টি পদ। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের ৬১টি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার প্রান্তিক এলাকার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক শিক্ষার্থী নেই। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিদ্যালয় অনলাইনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কার্যকর মনিটরিং না থাকায় অনেক বিদ্যালয় সময়মতো খোলে না এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি হয়ে যায়। অনেক শিক্ষকও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না।
সম্প্রতি সরেজমিনে পোষাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিতালু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিধাই বাতেনিয়া আবদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্নাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্নপুর গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষার্থী উপস্থিতি অত্যন্ত কম দেখা গেছে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থী সংকটের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও বন্ধ ছিল।
পোষাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা শিক্ষার্থী বাড়াতে চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দক্ষ শিক্ষকের অভাব ও নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। অনেকেই প্রথমে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করালেও পরে সন্তানদের অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন।
কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাতীয়করণ হওয়া কিছু বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ শিক্ষকের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর মনিটরিং ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিল মাত্র ১ থেকে ৬ জন। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মানও কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, “বিদ্যালয়গুলোর মনিটরিং দুর্বল—এ অভিযোগ সঠিক নয়। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূঁইয়া বলেন, “কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী না থাকা ও উপস্থিতি কম থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”
এফএ/এসআর