নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভায় এক মুক্তিযোদ্ধা তাঁর বক্তব্যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ওই মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানকে লাঞ্ছিত ও প্রকাশ্যে মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে আলাউদ্দিন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। একইসঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদে মুক্তিযোদ্ধাকে হেনস্তার এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানান, ভুলবশত এমন স্লোগান দিয়ে ফেলেছেন এবং সভাস্থলেই দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত হাজিনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাঁকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে সভাস্থলের মাইকে সবার সামনে পুনরায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ, সুধীসমাজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। সময়ের প্রেক্ষাপটে এখন এ স্লোগান দেওয়া যে কারও জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। গতকাল সভায় মুখ ফসকে ‘জয় বাংলা’ বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করলেও আমাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।”
এ বিষয়ে হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন, “আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও বাস্তবে তাঁর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। সে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করছে। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করলেও যুবদলের কোনো পদ বা সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
তিনি দাবি করেন, “মিজানুর রহমান বক্তব্যের এক পর্যায়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। সঙ্গে সঙ্গে আমিসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করি। সবাই যখন উত্তেজিত হয়ে পড়ে, তখন পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। পরে মিজানুর রহমান মাইকে সবার কাছে ক্ষমা চান। এখানে আমাকে একাই দায়ী করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হেনস্তা করা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়েছি। যদিও পরবর্তীতে এ স্লোগানের অপব্যবহারের কারণে এটি বিতর্কিত হয়ে পড়েছে।”
কেএইচ/আরএন