নওগাঁর মান্দায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পৃথক দুই অভিযানে জেলার শীর্ষ অনলাইন জুয়াড়িসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ২১টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, ১৬টি পার্সোনাল কম্পিউটার (পিসি), ১৬টি মনিটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অর্থপাচার এবং তরুণদের জুয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার (১৪ মে) রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন এবং মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে উপজেলার কাশোপাড়া (ফকিরপাড়া) এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অনলাইন জুয়ার মূল হোতা হিসেবে পরিচিত সোহেল হোসেন (২৪), রবিউল ইসলাম (১৯) ও সোহেল রানা (২০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সোহেল হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ ও পাঁচটি ডেস্কটপ কম্পিউটার জব্দ করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার (১৫ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার দিনবনি হাড়িপাড়া এলাকায় ফজলুর রহমানের একতলা বাড়ির নিচতলায় পরিচালিত একটি অনলাইন জুয়ার সেন্টারে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তরুণরা গভীর রাতে অনলাইনে জুয়ায় অংশ নিচ্ছিলেন। অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় ১৫টি মোবাইল ফোন, ১১টি পিসি, ১১টি মনিটর, ১১টি কিবোর্ড ও তিনটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আল আমিন (২৮), আল মামুন (২২), শাকিল বাবু (১৯), বদিউজ্জামান ওরফে বিপ্লব (২০), শাফায়েত রাব্বি (১৯), আরিফ হোসেন (৩০), মুশফিকুর রেজা ওরফে রাতুল (২২), রবিউল ইসলাম (২৬), নাইস বাবু (২৫), রোমান বাবু ওরফে রিয়ন (২১), নাজমুল হোসেন (২৭) ও শাফায়েত ওরফে আপন (১৯)।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডলারের অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ওই সেন্টারে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলাজুড়ে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। সমাজবিধ্বংসী এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
কেএইচ/আরএন