গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মো. ফোরকান মোল্লা (৪০) হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার দিন ১১ মে ভোর বেলা একটি সাদা প্রাইভেটকার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে সাদা শার্ট পরিহিত ফোরকান সেতুতে নেমে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন ও কালো রঙের ব্যাগ রেখে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।
পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতুতে ফোরকানের ফেলে যাওয়া ব্যাগ ও মোবাইলফোন একটি মালবাহী ট্রাকের হেল্পার দেখতে পান। পরে তিনি সেগুলোকে জিম্মায় নেন। পরে পুলিশের একটি দল সেই মোবাইলফোন মেহেরপুর থেকে উদ্ধার করে। ইতোমধ্যেই পদ্মা নদীকেন্দ্রিক সব থানাগুলোতে ফোরকানের বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ ও সিআইডি টিমের সদস্যরা এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা ফোরকান মোল্লার সঙ্গে একই জেলার পাইককান্দি গ্রামের মোছা. শারমিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন কন্যা সন্তান ছিল।
দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত বলে জানায় পুলিশ। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক মো. রসূল মোল্লাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ার বাসায় নিয়ে আসেন। পরে রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা মো. শাহাদৎ মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় পেনাল কোডের ৩২৮/৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. যোবায়ের-এর ওপর।
ঘটনার পর গাজীপুর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম তদন্তে নামে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এনএএস/এসআর