শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় প্রবাহিত চেল্লাখালী ও ভোগাই নদীতে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ভাটির দিকে নেমে গেছে। আকস্মিক এ ঢলের পানি নদীর তীররক্ষা বাঁধ উপচে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকার ফসলি জমি ও ঘরবাড়িতে উঠলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নতুন করে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নালিতাবাড়ীতে প্লাবন বা আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা কেটে গেছে। এদিকে, একই দিন সকালে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে বুধবার প্রায় সারাদিন টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হঠাৎ করে উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের গোল্লারপাড় এলাকায় বাঁধ উপচে ঢলের পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি পানির প্রবল স্রোতের চাপে ওই স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়।
এদিকে, শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে গোল্লারপাড় এলাকা দিয়ে আর পানি প্রবেশ করছে না। এতে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
নালিতাবাড়ী কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের গোল্লারপাড় এলাকায় হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানি উঠলেও বৃহস্পতিবার ওই এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তাছাড়া ওই এলাকায় কৃষকদের প্রায় ৯৫ শতাংশ বোরো ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির তেমন কোনো আশঙ্কা নেই।
অপরদিকে, পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকার খামারবাড়ির অতিরিক্ত পরিচালক (উপকরণ ও সরেজমিন উইং) মো. রওশন আলম, শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন, নালিতাবাড়ীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এমএস/আরএন