শেরপুরের চারটি পাহাড়ি নদীতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৩ মে) ভোররাত থেকে বেলা পর্যন্ত দফায় দফায় ভারি বর্ষণে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঝিনাইগাতির মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপদসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৫৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৪১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিকেলে চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকায় একটি বাঁধের অংশ পানির তোড়ে ভেঙে যায়। এতে ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে এবং বেশ কয়েকটি বোরো ধানের খেত তলিয়ে যায়।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত রাত থেকে শেরপুরে ১১ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ীতে ৯০ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁওয়ে ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা ভাঙন ও আকস্মিক বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে অসময়ের টানা বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৪৫ হেক্টর বোরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে নতুন করে ভারি বর্ষণ শুরু হওয়ায় ফসলের আরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নালিতাবাড়ীর দক্ষিণ রানীগাঁও গ্রামের কৃষক শামছুদ্দিন জানান, তার তিন একর বোরো জমি পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারিনি।”
শেরপুর কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “প্রথম দফার বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া অনেক জমির পানি নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। ইতোমধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে নতুন করে ভারি বর্ষণ হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
এমএস/এসআর