ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সরকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। কারণ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে নিজ সংসদীয় আসনে ৫৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে বেশ কয়েকটি উন্নয়নকাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। কিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে এবং কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ তাকে চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী করে তার কাঁধে গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছে। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
বুধবার হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার বিতরণ, অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা, হালদা নদীর তীরবর্তী নিবন্ধিত মৎস্যজীবী ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এআইজি সহায়তা হিসেবে সেলাই মেশিন বিতরণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা এবং আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন।
প্রধান অতিথি বলেন, হালদা নদী হাটহাজারী তথা চট্টগ্রামের ঐতিহ্য। এই নদী রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। এই নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা গেলে তাদের মধ্যে নদীর প্রতি মমত্ববোধ বাড়বে। তারা নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও যত্নশীল হবে। এ লক্ষ্যে উপজেলা মৎস্য বিভাগ হালদা নদীর ওপর নির্ভরশীল ৭৫টি পরিবারকে সেলাই মেশিন দিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের প্রত্যেককে দুই বান্ডিল ঢেউটিন এবং দুই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অস্বচ্ছল দুইটি পরিবারের মধ্যে ছয় হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। এসব সহায়তা প্রান্তিক জনগণের উপকারে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সমাজসেবা দপ্তরের পক্ষ থেকে তিনজন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার এবং দুঃস্থ দশটি পরিবারের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমানের সঞ্চালনায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন র্যাব-৭ এর কর্মকর্তা সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পরমেশ দাশ, কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া, উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নুর মোহাম্মদ ও জাগির হোসেন, এবং উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান ও অহিদুল আলম।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই দল-মত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে হলেও মাদকের কালো থাবা থেকে হাটহাজারী তথা দেশকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
ইউএন/আরএন