ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ফকিরহাটে বাড়ছে ব্রি ধানের আবাদ, কমছে হাইব্রিড নির্ভরতা
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম
X

বিদেশি হাইব্রিড বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ধানের আবাদে ঝুঁকছেন বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কৃষকেরা। ফলন প্রায় সমপর্যায়ের হলেও উৎপাদন ব্যয় কম এবং নিজস্ব জমির ধান থেকেই পরবর্তী মৌসুমের বীজ সংরক্ষণের সুযোগ থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে দেশি উফশী ধানের প্রতি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে আউশে ব্রি ধান-১০৬ জাতের ২ দশমিক ১ হেক্টর, আমনে ব্রি ধান-১০৩ জাতের ১৩ হেক্টর এবং বোরো মৌসুমে ব্রি ধান-১০১, ১০২, ১০৪ ও ১০৫ জাতের ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে আগের আবাদি জমির পাশাপাশি আউশে আরও ২ দশমিক ৬ হেক্টর, আমনে ১২ হেক্টর এবং বোরোতে নতুন করে ব্রি ধান-১০৮ ও ব্রি ধান-১১৪ যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত ২৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৩ দশমিক ৭ হেক্টর জমিতে ১০০+ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ হচ্ছে।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মাঠ পর্যায়ের নমুনা শস্য কর্তনেও প্রতি বিঘায় (৫২ শতক) ৪৩ থেকে ৫০ মণ ফলন পাওয়া গেছে। ১০০+ জাতের মধ্যে ব্রি ধান-১০২ জিংকসমৃদ্ধ, ব্রি ধান-১০৪ সুগন্ধি, ব্রি ধান-১০৫ ডায়াবেটিক-বান্ধব চাল হিসেবে পরিচিত এবং ব্রি ধান-১০৮ জিরা টাইপের উচ্চ ফলনশীল ধান।

কৃষকেরা জানান, আগে বেশি ফলনের আশায় তারা বিদেশি হাইব্রিড ধানের ওপর নির্ভর করতেন। তবে প্রতি বছর নতুন বীজ কিনতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেত এবং বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা তৈরি হতো।

বেতাগা এলাকার কৃষাণী অরুণা দাস বলেন, “বিদেশি বীজের জন্য আর বাজারে দৌড়াতে হয় না। নিজের গোলার ধানই এখন আমার বীজ।”

ফকিরহাট সদর এলাকার কৃষক রবি দাস বলেন, “এখন ব্রি উফশী ধান চাষ করছি। নিজের জমির ধান থেকেই বীজ রেখে পরের মৌসুমে ব্যবহার করছি।”

কৃষক সৈয়দ কালাম ও রমেশ দাসসহ অন্যরা জানান, দেশি উফশী ধানে ফলন ভালো এবং ঝুঁকি তুলনামূলক কম। বিশেষ করে আউশ মৌসুমে হাইব্রিড ধানের জন্য অনুকূল আবহাওয়া না থাকলেও উফশী ধান সহজেই চাষ করা যায়। ফলে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, আউশ মৌসুমে ব্রি ধান-১০৬ জাতটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারী বর্ষণেও এ জাত পানির চাপ সহ্য করতে পারে এবং ভালো ফলন দেয়।

ফকিরহাট বাজারের কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী ও মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্সের মালিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “হাইব্রিড বীজের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। এখন কৃষকেরা বেশি খোঁজ করছেন ব্রি উদ্ভাবিত উফশী বীজের।”

তিনি জানান, এক কেজি হাইব্রিড বীজের দাম প্রায় ৪৮০ টাকা, যেখানে উফশী বীজ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১২০ টাকায়। উৎপাদন ব্যয় প্রায় একই হলেও বীজ সংরক্ষণের সুবিধার কারণে কৃষকেরা উফশীর দিকে ঝুঁকছেন।

কৃষক মোস্তফা হাসান বলেন, “এক বিঘা হাইব্রিড ধানে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়, আর উফশীতে প্রায় ২২ হাজার টাকা। ফলনও প্রায় একই—বিঘাপ্রতি ৪৩ থেকে ৫০ মণ। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের ধান থেকেই বীজ রাখা যায়।”

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, ব্রি ধান-৯৭ ও ব্রি ধান-৯৯ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা ও খরা সহিষ্ণু হওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।

পার্টনার প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ইতোমধ্যে ২৬০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে আধুনিক ১০০+ জাতের ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সার, বালাইনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণও দেওয়া হয়েছে। মাঠ স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের মাটি ও পানি পরীক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, বীজ সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল বলেন, “স্থানীয়ভাবে বীজ সংরক্ষণযোগ্য উচ্চ ফলনশীল জাতের বিস্তার বাড়লে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে, বিদেশি বীজ নির্ভরতা কমবে এবং কৃষিতে টেকসই স্বনির্ভরতা গড়ে উঠবে।”

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কৃষকদের এই পরিবর্তন ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। তারা হাইব্রিডের মতো ফলন পাচ্ছেন, আবার বীজ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছেন। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”

এএটি/ এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝