সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষকদের কষ্টের ফসল ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। এবারে হাওরে জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টির কারণে কৃষক তাদের ফসল সঠিক সময়ে ঘরে তুলতে পারেন নাই।
তাদের দাবি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি টাকা খরচ করে তাদের ফসল ঘরে তুলতে হয়েছে।
মল্লিকপুর গ্রামের বড় গৃহস্থ আতাউর রহমান বলেন, 'অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে আমার জমিতে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটাতে পারি নাই। আমি শ্রমিক দিয়ে ১০০০ টাকা করে রোজ ধান কাটাইছি। ধান কাটানোর পর মারাই দিয়ে গাড়িতে করে বাড়িতে নেওয়া পর্যন্ত আরও খরচ হয়েছে। আমার একজন কাজের লোকের মজুরি খাবারসহ সবকিছু মিলে ১০০০ টাকার উপরে পড়েছে। কিন্তু আমি প্রতি মণ ধান বিক্রি করেছি মোটা ৮৫০ টাকা আর চিকন ৯০০ টাকা করে। তাহলে বলুন আমরা কিভাবে সামনে চাষাবাদ করবো। আমাদের এই দুর্ভোগ দ্রুত সমাধান করতে হবে। নইলে হাওর পাড়ের মানুষ এই পেশায় আগ্রহ কমাবে।'
বাগ গাও গ্রামের দরিদ্র কৃষক জগিন্দ্র বলেন, 'আমরা অন্যের জমিজমা করে খাই, যাই কয়টা ধান আবাদ করছি তার সঠিক দাম পাইতেছি না। এখন কিস্তির টাকার জন্য কিছু ধান বিক্রি করব কিন্তু দাম মাত্র ৮৫০ টাকা করে।ধান ক্রয় করার বেশি লোকও নাই তাই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করা লাগছে।'
কৃষক আলম বলেন, 'আগে বড় বড় রাইস মিলগুলোতে ধান মিলিং করে চাল বিক্রি করতো। কিন্তু এখন এর সরবরাহ কম থাকায় মিলাররা ধান ক্রয় করছেন না।'
হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক দুলাল মিয়া বলেন 'কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের কৃষকদের ধান উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ হয়। কিন্তু সেই পরিমাণে তারা ধানের ন্যায্য দাম পাননা। এ জন্য প্রান্তিক কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য দাম পান সরকারের সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো আসাদুজ্জামান বলেন, এই বছর ১০ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়। এবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন। অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে খরচার হাওরের কিছু ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে আমরা কৃষকদের সকল সহযোগিতায় পাশে আছি।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান বলেন, 'হাওর পাড়ের কৃষক যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সরকার সকল ব্যবস্হা গ্রহণ করেছে। চলতি বছরে ৯৫৬ মেট্রিক টন বোরো ধান-চাল বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা হতে সংগ্রহ করবে। যা ইতিমধ্যে চলমান আছে। এ বছর প্রতি কেজি ধানের সরকারি মূল্য ৩৬ টাকা।যা মণপ্রতি ১৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহযোগিতায় যে অঙ্গীকার করেছেন আমরা তার সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।'
জেডআর/এমএ