গত এপ্রিল মাসে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত ও এক হাজার ২৬৮ জন আহত হয়েছেন।বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরও বেশ কয়েকগুন বাড়তে পারে। যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে আনা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত, ১১ জন আহত হয়েছেন। তথ্যমতে, নৌ পথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় চার জন নিহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌ পথে সর্বমোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় ৫৬৩ জন নিহত এবং এক হাজার ২৭৯ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত, ১২৪ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, নিহতের ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও আহতের ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত ও ২৬৩ জন আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে মোজাম্মেল হক বলেন, পরিবহন সেক্টর পরিচালনার পদ্ধতি আপদমস্তক সংস্কার জরুরী। আমলাতন্ত্রের পরির্বতে দেশী-বিদেশী পরিবহন বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে পরিবহন সেক্টর পরিচালনা করা গেলে পরিবহনে শৃংঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ নিরসন, প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিল থামানো সক্ষম হবে। তাই নতুন সরকারকে পুরোনো পরিবহন পরিচালনা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে আট জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১০৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৪৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮১ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৪ জন শিশু, তিন জন চিকিৎসক, একজন সাংবাদিক, একজন আইনজীবী এবং নয় জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছে- একজন পুলিশ সদস্য, একজন বিমানবাহিনী সদস্য, দু'জন বিজিবি সদস্য, তিন জন চিকিৎসক, ৯৯ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫২ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৫৬ জন শিক্ষার্থী, ২৫ জন পরিবহন শ্রমিক, পাঁচ জন শিক্ষক, একজন আইনজীবী, একজন সাংবাদিক ও আট জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৮০৫টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২১ দশমিক ৮৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ০৮ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০ দশমিক ৫৬ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০ দশমিক ৫৬ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।
দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও, সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০ দশমিক ৫৬ শতাংশ রেল ক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।