আমি জীবনে কোনো দিন মাদ্রাসায় যাইনি। আমার বাবা এটা মনে করতেন যে, মাদ্রাসার বাচ্চারা বড় কোনো পদে চাকরি পায় না। বাবা বলতেন আমার ছেলে-মেয়ে অনেক বড় পদে চাকরি করবে, বড় কর্মকর্তা হবে। এর জন্য চাই তাদের ইংরেজি শিক্ষা টাইপিং, স্টেনো, কম্পিউটার দক্ষতা পড়াশোনার পাশাপাশি টেকনিক্যাল কলেজে গিয়ে এইসব ভোকেশনাল কোর্সগুলো আমি সম্পন্ন করেছি যাতে করে চাকুরির ক্ষেত্রে আমার সুবিধা হয়। আমার বাবা আমাকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখতেন। তিনি চাইতেন আমি এমন একটা কাজ করবো যেখানে আমাকে সবাই সম্মান করবে। আমি যাতে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হই তার জন্য মৃত্যুর আগে আমার হাত ধরে বলে গিয়েছিলেন, তুই আমাকে কথা দে তুই মাস্টার্স পাশ করবি। আমি বাবাকে কথা দিয়েছিলাম এবং কথা রেখেছি।
ধর্ম শিক্ষা আমরা ভাই-বোনেরা নিয়েছি আমাদের মায়ের কাছ থেকে। প্রথমে কোরআন পড়া শিখেছি। এরপর বাংলাসহ পাঠ করেছি। এসএসসি পাস করার পর আমার নানার কাছে শানে নজুল ব্যাখ্যাসহ পাঠ করেছি। আমাদের পরিবার মনে করে ধর্ম ঘরের থেকেই শেখানো উচিত। আমি আমার সন্তানদের ধর্ম শিখিয়েছি আরবি হুজুর রেখে। আমার মেয়ে এবং ছেলে দু'জনের আরবি হুজুরই নারী ছিলেন।
আমি আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই মাদ্রাসার কিশোরী ও শিশু ধর্ষণের বিষয়টা দেখতে পাচ্ছি। নারীদের হোস্টেলে রেখে পুরুষ হুজুরের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের ঘটনা আজকাল ফেসবুক খুললেই দেখা যায় দিনে প্রায় ১০-১৫টা ঘটনা। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। এই ঘটনা থেকে উত্তরণ হওয়া আমাদের অত্যন্ত জরুরী। এভাবে চোখের সামনে কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের যৌন নির্যাতিত হতে দেওয়া যাবে না। মাদ্রাসাগুলোতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, আধুনিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ভাষার প্রসারে ও কম্পিউটার এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দক্ষতা উন্নয়নের একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা আমি সরকারকে দিতে চাই।
বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশু ও কিশোরী ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক হয়রানির ঘটনা সমাজকে গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সংবাদ মাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার শিশুরা ভয়ে মুখ খুলতে পারে না, আবার অনেক পরিবার সামাজিক লজ্জার ভয়ে অভিযোগও করে না। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি প্রকাশিত ঘটনার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে। শিশুরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে এবং পরবর্তীতে প্রতিবাদী হয়ে উগ্র মানুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা যেমন- বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ), নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস) আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে) এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বহুবার সতর্ক করেছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা দূর্বল হওয়ায় শিশু নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের মাদ্রাসা বিভাগ যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই। দিনের পর দিন নির্যাতিত হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না বিধায় একই ঘটনা বার বার নারী ও শিশুদের জীবনে ঘটতেই আছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সমস্যা
মাদ্রাসাগুলোতে যেসব ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ বেশি দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, যৌন হয়রানি ও অশালীন স্পর্শ, ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণ, আবাসিক হোস্টেলে রাতের বেলা নির্যাতন, ধর্মীয় শাস্তির নামে শারীরিক নির্যাতন, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ছাত্রীদের মানসিক ভাবে ভয় দেখানো, ছোট শিশুদের উপর বলাৎকার, অভিযোগ করলে বহিষ্কার বা সামাজিক অপমানের হুমকি এই বিষয়গুলো মাদ্রাসাতে অহরহ ঘটে যাচ্ছে যার নমুনা আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু কারো মৃত্যুদণ্ড দেখতে পাচ্ছি না, কারো শাস্তি দেখতে পাচ্ছি না। যার কারণে অহরহ ধর্ষণ ও বলাৎকারের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর জন্য আমাদের সরকারকে অবশ্যই আমরা আদায় করতে পারি। কারণ ঘটনা ঘটার পরেও অপরাধীর আইনি ভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে অবশ্যই অপরাধ কমে যেত।
শুধু মেয়েরা নয়, ছেলে শিশুরাও বহু ক্ষেত্রে যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে আবাসিক হিফজ ও এতিমখানা ধরনের প্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলেদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বহুবার সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু সরকারি ভাবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তির ব্যবস্থা না করে লক্ষ লক্ষ শিশুর প্রতি অবিচার করেছে সরকার নিজে।
কেন এই সমস্যা বাড়ছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমি এখন আলোচনা করব। আওয়ামী লীগ সরকার হাজারো মাদ্রাসা করে গেছে কিন্তু সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। ড. ইউনুসে সরকার তো এ বিষয়ে নাকই গলায়নি। দেখা যাক বিএনপি সরকার এ ব্যাপারে কি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আশা করি তারা মাদ্রাসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারবে। আমাদের দেশে স্কুলভিত্তিক শিশু সুরক্ষা নীতিমালার অভাব, আবাসিক মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত নজরদারির ঘাটতি, নারী শিক্ষকের স্বল্পতা, যৌন শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা ব্যবহার করে ভয় সৃষ্টি, অভিযোগ গ্রহণের নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকা, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অসহায়ত্ব, প্রযুক্তিগত ও আধুনিক শিক্ষার অভাবে আত্মবিশ্বাস কম থাকা, কিছু আলোচিত নির্যাতনের ধরণ, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, আবাসিক কক্ষে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণ, এতিমখানার শিশুদের উপর ধারাবাহিক যৌন নির্যাতন, হুজুরের বিরুদ্ধে একাধিক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদ্রাসাছাত্রীর আত্মহত্যা, কারণ যৌন হয়রানির ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ইত্যাদি সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কঠোর ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশা করি।
আমরা আমাদের সন্তানকে নির্যাতনের পরিবেশের মধ্যে নিজেরাই তুলে দিয়ে আসছি বেহেস্ত পাবার লোভে। এতে করে তারা যৌন নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে এত কিছু জানার পরেও বেহেস্তের লোভে আমরা শিশুদেরকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। এসব ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং এটি শিশু সুরক্ষা, জবাবদিহিতা এবং আধুনিক শিক্ষার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। আমাদের শিশুদের ধ্বংস করার জন্য আমরাই দায়ী।
পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে সব নির্যাতনের সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান সবসময় আলাদা ভাবে প্রকাশ না হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিশু যৌন নির্যাতনের একটি বড় অংশ ঘটে পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
অনেক ঘটনা মামলা পর্যন্ত যায় না। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলে শিশুরাও যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে এবং হতেই থাকবে। এটা কোনো লুকানোর বিষয় না। এটা খোলাসা করা উচিত সমস্যাকে সামনে নিয়ে এর মোকাবেলা করা উচিত। দোষীদের বিচার করা উচিৎ।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ শিশু সুরক্ষাকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই ভাবে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ শিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে।
উত্তরণের পথ: কী করা জরুরি এই বিষয়ে আমি এখন কথা বলব
প্রথমত: প্রতিটি মাদ্রাসায় নারী শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর নিয়োগ করতে হবে। মেয়েদের জন্য নারী শিক্ষক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে পর্দা করাও সম্ভব, ছাত্রীদের নিরাপত্তাবোধ বাড়বে, ব্যক্তিগত সমস্যা সহজে জানাতে পারবে, যৌন হয়রানির ঘটনা দ্রুত ধরা পড়বে, স্বাস্থ্য ও বয়ঃসন্ধি শিক্ষা সহজ হবে। প্রতিটি মাদ্রাসায় নারী সুপারভাইজার, নারী হোস্টেল ইনচার্জ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মনোরোগ কাউন্সেলর ও শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা উচিত।
দ্বিতীয়ত: শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রতিটি মাদ্রাসায় লিখিত Child Protection Policy থাকতে হবে। যেমন- সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ অভিযোগ বক্স, গোপন হেল্পলাইন অর্থাৎ যেকোনো সমস্যায় ৯৯৯, নারী নির্যাতনে ১০৯ এবং শিশু নির্যাতনে ১০৯৮ এই সকল নাম্বারে ফোন করতে হবে এই বিষয়টি সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জানা থাকতে হবে। অভিভাবক কমিটি, নিয়মিত মনিটরিং ও শিক্ষক ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তৃতীয়ত: যৌন শিক্ষা ও আত্মরক্ষামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিশোর কিশোরী ও শিশুদের শেখাতে হবে যে, শরীরের কোনো গোপনাঙ্গ বা ব্যক্তিগত স্থান কেউ স্পর্শ করলে কী করতে হবে, কোথায় অভিযোগ করবে। স্কুলে ভর্তির পর পর সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জানাতে হবে, শিশু কিশোর কিশোরীদের “না” বলার অধিকার আছে এটা তাদের শেখাতে হবে, অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়েও সচেতন করতে হবে। এগুলো ইসলামবিরোধী নয় বরং শিশু সুরক্ষার একটা বড় অংশ।
চতুর্থত: আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা যুক্ত করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে। তাই বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা (পড়া, লেখা, শোনা ও বলা) শিক্ষা দান করতে হবে, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, বিজ্ঞান গবেষণা তাদের বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এতে হিজাব পরেও একজন মেয়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মী হতে পারবে।
পঞ্চমত: আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনে নারীদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি করে তাদের স্বনির্ভর করতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরীর বিষয়ে মাদ্রাসার মেয়েদের শেখানো যেতে পারে, অ্যামাজনে পণ্য বিক্রি, ইটসি ব্যবসা, ফাইভার ও আপওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট রাইটিং, ইসলামিক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, অনলাইন টিউটরিং, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি বিষয় দক্ষতা বৃদ্ধি জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। এতে তারা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হবে, আত্মবিশ্বাসী হবে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে।
ষষ্ঠত: আবাসিক মাদ্রাসায় কঠোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। আলাদা নারী হোস্টেল সুপার নিয়োগ দান, ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের নিয়মিত ভিজিট, শিশুদের সাথে একান্তে শিক্ষক অবস্থান নিষিদ্ধ করা, নির্যাতনের অভিযোগে দ্রুত মামলা ও বহিষ্কার এসব বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে।
সপ্তমত: ধর্মীয় শিক্ষার সাথে মানবিক মূল্যবোধের বিষয়ে জ্ঞান দান করতে হবে, ইসলাম কখনো নির্যাতন সমর্থন করে না। বরং নারী মর্যাদা, শিশু অধিকার ও ন্যায় বিচারের শিক্ষা দেয়। তাই পাঠ্যক্রমে যুক্ত করতে হবে, মানবাধিকার, নারীর সম্মান, নারী-পুরুষের সমতা, শিশু অধিকার, সহনশীলতা, নৈতিকতা, ভিন্নমতের সাথে চলা ও অন্যের মতে সম্মান করা, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়গুলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
অষ্টমত: সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয় সাধন করতে হবে। সরকার, ইসলামিক স্কলার, নারী সংগঠন, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের যৌথ ভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় পর্যায়ে মাদ্রাসা সংস্কার কমিশন গঠন, শিশু সুরক্ষা অডিট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ল্যাব তৈরি, নারীদের নেতৃত্বের উন্নয়ন এই সকল বিষয়সমূহ মাদ্রাসা শিক্ষায় একটি নতুন স্বপ্ন নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সহায়ক হবে।
আমরা এমন মাদ্রাসা চাই যেখানে থাকবে দক্ষ ব্যবস্থাপনা। যেখানে শিশুরা নিরাপদ থাকবে, যেখানে নারী সম্মান পাবে, যেখানে ধর্ম ও বিজ্ঞান একসাথে চলবে, যেখানে কোরআনের পাশাপাশি কম্পিউটার শেখানো হবে, যেখানে হিজাব পরা একজন মেয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে কাজ করবে, যেখানে একজন ছাত্র ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক দক্ষতা দুটিই অর্জন করবে। বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা অত্যন্ত জরুরি।
যৌন নির্যাতন শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে হলে অপরাধ গোপন নয়, বরং সত্য প্রকাশ, জবাবদিহিতা এবং সংস্কার প্রয়োজন। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে, ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে আমরা এমন একটি মাদ্রাসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, যা হবে নিরাপদ, মানবিক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির শক্তিশালী ভিত্তি। এর জন্য চাই সকল ধর্ষণকারীদের দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তির বাস্তবায়ন।
এছাড়া, নারী ও শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব না। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমার জোর দাবি, সকল ধর্ষণকারীদের সুষ্ঠু বিচার বাস্তবায়ন করেন এবং উদাহরণ সৃষ্টির মাধ্যমে সেসব খবর প্রচার করে মাদ্রাসাসহ দেশের সকল নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবেন।
লেখিকা: নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক।
এমএ