খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ের বলিপাড়া এলাকায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে অবৈধ বালুমহালে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রামগড় থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আনসার ও পুলিশ ১০ রাউন্ড শর্টগানের রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহতরা হলেন— রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব, আনসার সদস্য নুর মোহাম্মদ, মো. সালাউদ্দিন, খোরশেদ আলম, নুর আহাম্মদ, ইউএনওর গাড়িচালক কামাল হোসেন, অফিস সহকারী জয়নাল আবেদীন, ইউএনও অফিসের পিয়ন মো. হারুন, পৌরকর্মী শিহাব এবং গ্রামবাসীর মধ্যে মো. আজাদ হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, নূর হোসেন ও আবুল হাসান।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বলিপাড়া এলাকায় প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১০টি স্থানে বিশাল গর্ত করে কৃষিজমি খনন করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে বালু উত্তোলনকারীদের সহযোগিতায় ১ থেকে দেড়শ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা শর্টগান থেকে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন।
এ ঘটনায় আহত ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নূর হোসেন, সুমন ত্রিপুরা ও আজাদ অভিযোগ করেন, অভিযানকালে কৃষি সেচের তিনটি স্যালো মেশিন ভাঙচুর ও নষ্ট করে দেওয়ায় তারা প্রতিবাদ করতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গুলির নির্দেশ দেন। গুলির ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ধাওয়া দিয়ে প্রতিবাদ জানায়।
তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও কাজী শামীম স্যালো মেশিন নষ্ট করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।