লক্ষ্মীপুরে একটি মারামারির মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে ফারহানা আক্তার শিল্পী (৩৫) নামের এক নারীকে। তার সঙ্গে ১৫ মাস বয়সী দুধের শিশু সিয়ামকেও কারাগারে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আদালত ও কারাফটকে দুই সন্তান মায়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী সদর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শিল্পী। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই মামলায় জহির উদ্দিন নামের আরেক আসামিকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
দুপুরে প্রিজন ভ্যানে করে শিল্পীকে কারাগারে নেওয়া হয়। এ সময় তার কোলে ছিল দুধের শিশু সিয়াম। পরে বিকেলের দিকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্টরা।
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, “শিশুসহ আসামি শিল্পী বর্তমানে কারাগারে আছেন। বিকেলে তাদের কারাগারে আনা হয়েছে।”
এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে স্কুলড্রেস পরিহিত আরও দুই শিশু—শিপন হোসেন (১০) ও তামান্না আক্তার (৮)—মায়ের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তারা শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে তাদের পরীক্ষা চলছে বলে জানা গেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “দুধের শিশু নিয়ে এক নারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার দুই সন্তান জেলগেটে মায়ের জন্য অপেক্ষা করেছে।”
অন্যদিকে আরেক আইনজীবী রাকিবুল হাসান তামিম বলেন, মামলার এজাহারে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ থাকলেও মেডিকেল রিপোর্টে সাধারণ জখম উল্লেখ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাহাপুর এলাকায় মারামারির ঘটনায় শিল্পীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, রড দিয়ে আঘাতে বাদীর মাথায় গুরুতর জখম হয়।
তবে ভিন্নমত জানিয়ে আসামিপক্ষের স্বজনদের দাবি, মামলাটি “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক” এবং দুধের শিশুসহ একজন মাকে কারাগারে পাঠানো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
ওআরএম/এসআর