কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়জনিত প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চা পাতা উত্তোলন (প্লাকিং) কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক চা পাতা অতিরিক্ত পরিণত হয়ে ‘কোর্স লিফ’ পর্যায়ে চলে গেছে এবং ব্যানজি কন্ডিশন বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সূর্যালোকের অভাব ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে পাতার স্বাভাবিক পরিপক্বতা ব্যাহত হওয়ায় চায়ের গুণগত মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র দমকা হাওয়ার কারণে বহু চা গাছের ডালপালা ভেঙে গেছে। ভারী বৃষ্টিপাতে কিছু এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে, যা জমির গঠন ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে উৎপাদন চক্রে বিলম্ব সৃষ্টি হয়ে ‘লেট সাইডিং’ পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক বাগানের কারখানায় সময়মতো চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ফ্রেশ লিফ নষ্ট হয়ে চায়ের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে প্রতিকূল আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাহুবল উপজেলার চা শিল্পে উৎপাদন ও গুণগত মান ধরে রাখতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। উপজেলার অন্তত পাঁচটি চা বাগানে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের ইউনিট প্রতিনিধি এম কাওছার বলেন, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবুজ পাতা ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো প্রসেসিং সম্পন্ন না হওয়ায় উৎপাদনের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। চা শিল্প সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ জরুরি।”
সিলেট বিভাগের অন্যতম চা বাগান আমতলী প্লান্টেশনের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ পাঠান বলেন, “প্রতিকূল আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে আমরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি।”
এসএমআর/এসআর