সাভার পৌরসভায় মুরগি পরিবহনের লোড-আনলোডে ‘কুলি বিট’ বাবদ প্রতি পিস মুরগিতে এক টাকা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে মুরগি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ইজারাদারদের বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে গত দুই দিন ধরে ধর্মঘট পালন করছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা। এতে সাভারের বিভিন্ন বাজারে মুরগি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তারা নিজেরাই শ্রমিক দিয়ে মুরগি লোড-আনলোড করলেও প্রতি পিসে এক টাকা করে ‘কুলি বিট’ আদায় করা হচ্ছে, যা তারা অবৈধ চাঁদা হিসেবে দেখছেন। এ কারণে তারা সরবরাহ বন্ধ রেখে সাভার মডেল থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মুরগি ব্যবসায়ী নেতারা জানান, আগে গাড়িপ্রতি নির্ধারিত চার্জ পরিশোধ করা হলেও বর্তমানে ইজারাদাররা প্রতি পিস মুরগিতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটকে রাখা এবং চালকদের হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন তারা।
সাভার-আশুলিয়া মুরগি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান সিকদার বলেন, “কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় মুরগি বোঝাই গাড়ি আটকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
সংগঠনের সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, “গাড়িপ্রতি ৮০ টাকা পার্কিং চার্জ নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে ইজারাদাররা প্রতি পিস মুরগির জন্য এক টাকা করে দাবি করছেন, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সমাধান না হলে ধর্মঘট চলবে।”
অন্যদিকে, ‘কুলি বিট’ ইজারাদার আলমগীর হোসেন মোল্লা দাবি করেন, তিনি পৌরসভা নির্ধারিত দর অনুযায়ী প্রতি পিস মুরগিতে এক টাকা নিচ্ছেন। তার ভাষায়, ২০২০ সালের একটি সমঝোতায় গাড়িপ্রতি চার্জ নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে পৌরসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন হার কার্যকর রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীরা আলোচনা না করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে ইজারার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং একটি নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হবে।”
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে সাভার বাজারসহ আশপাশের এলাকায় মুরগির সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ওএফ/এসআর